পবিত্র কুরবানি, হজ্জ এবং চাঁদ দেখা বিষয়ক লেখালেখির আর্কাইভ

  • 1. পবিত্র কুরবানি
  • 2. পবিত্র হজ্জ
  • 3. চাঁদ দেখা
বিভিন্ন ব্লগ-ওয়েবসাইট-ফেসবুকে প্রকাশিত "পবিত্র কুরবানি" বিষয়ক নির্বাচিত লেখালেখির আর্কাইভ
বিভিন্ন ব্লগ-ওয়েবসাইট-ফেসবুকে প্রকাশিত "পবিত্র হজ্জ" বিষয়ক নির্বাচিত লেখালেখির আর্কাইভ
বিভিন্ন ব্লগ-ওয়েবসাইট-ফেসবুকে প্রকাশিত "চাঁদ দেখা" বিষয়ক নির্বাচিত লেখালেখির আর্কাইভ
Expand All | Collapse All
  • 1. কুরবানীদাতার ফাযায়িল-ফযীলত
     

    (ক) পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت زيد بن ارقم رضى الله تعالى عنه قال قال اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ماهذه الاضاحى قال سنة ابيكم ابراهيم عليه السلام قالوا فما لنا فيها يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بكل شعرة حسنة قالوا فالصوف يارسول الله صلى الله عليه وسلم قال بكل شعرة من الصوف حسنة.

    অর্থ :“হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমউনারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি?তিনি জাওয়াবে বললেন, তোমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত। উনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে?তিনি বললেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

    (খ) বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দরবার শরীফ-এ প্রার্থনা জানান, বারে ইলাহী! আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত উনারাপবিত্র কুরবানী করলে কি পরিমাণ ছওয়াব পাবে? মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি জবাব দেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে কুরবানীদাতা দশটি নেকী লাভ করবে, তার দশটি গুণাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর পেট চিরলে কি পরিমাণ ছওয়াব পাবে? মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন, কুরবানীদাতা কবর হতে উঠলে ক্ষুধা-পিপাসায় অস্থির হবে না এবং ক্বিয়ামতের ভয়ভীতি থেকেও ইতমিনান থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আরো বলেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতি গোশতের টুকরারবদলে কুরবানীদাতা জান্নাতে একেকটি মহল লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি আরো বলেন, হে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম! আপনি জেনে রাখুন, কুরবানীদাতার জন্য পবিত্র কুরবানী উনার পশু (পুলছিরাত পার হওয়ার) বাহন স্বরূপ হবে।

    (গ) বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ দশ বছর অবস্থান মুবারক করেছেন। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করেছেন; কখনও তা ছাড়েননি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পবিত্র কুরবানী করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। পবিত্র কুরবানী না করে তার অর্থ দান করে দেয়ার বিধান শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিংবা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও এরূপ করেননি। অথচ উনাদের যুগেই এর জরুরত ছিল অধিক। বরং উনারা পবিত্র কুরবানী করেছেন এবং তার গোশত ও চামড়া অভাবগ্রস্থদের মধ্যে বণ্টন করতে বলেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- عَنْ ام الـمؤمنين حضرتصديقة عليها السلام قالتقالرسول الله صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ ما عمل ابن ادم من عمل يوم النحر احب الى الله من اهراق الدم وانه لياتى يوم القيامة بقرونـها واشعارها واظلافها وان الدم ليقع من الله بـمكان قبل ان يقع بالارض فطيبوا بـها نفسا.অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকেন তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাকউনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে যায়। (সুবহানাল্লাহ!) কাজেই তোমরা আনন্দচিত্তে পবিত্র কুরবানী করো।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)এক বর্ণনা মতে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু কুরবানীদাতার নাজাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দান করবে। পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরবানীদাতার আমলনামায় অসংখ্য নেকী দান করেন। সুবহানাল্লাহ!

    (ঘ) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিনে বান্দার পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তার সমস্ত গুণাহ মাফ করে দেন।”সুবহানাল্লাহ!

    (ঙ) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে সমস্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা হবে ক্বিয়ামতের দিন সেই পশুগুলো কুরবানীদাতাকে পিঠে করে বিদ্যুৎবেগে পুলছিরাত পার করে বেহেশতে পৌঁছিয়ে দিবে।” সুবহানাল্লাহ!

    (চ) পবিত্রহাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র কুরবানী উনার পশু ক্বিয়ামতের দিন সাওয়ারী বা বাহন হিসেবে গণ্য হবে।”
    সুতরাং কানা, খোড়া, রোগাক্রান্ত, কানকাটা, দন্তহীন ইত্যাদি যাবতীয় দোষযুক্ত পশু পবিত্র কুরবানী করা পরিহার করতঃ সম্পূর্ণ দোষমুক্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা উচিত। উল্লেখ্য, যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব তারা তো পবিত্র কুরবানী করে অফুরন্ত ফযীলত লাভ করবেন। কিন্তু যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব নয় তারাও ইচ্ছা করলে একাধিকজন মিলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নামে দুম্বা, মেষ, ভেড়া, ছাগল, খামী বা গরু, মহিষ পবিত্র কুরবানী দিয়ে পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত লাভ করতে পারে।

    More
  • 2. সরকার নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানি নিয়ে কিছু কথা
     

    সরকার নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানি করতে জনগণের মধ্যে যেসকল মানবীয় গুনাবলী থাকা আবশ্যক

    ১) জনগণকে অসীম ধৈর্যশীল হতে হবে। তাদের সিরিয়াল ধরার মনমানসিকতা থাকতে হবে। দেখা যাবে সকাল বেলা গরু সিরিয়াল দেওয়ার পর সন্ধা বেলা জবাই হবে। কিংবা বলা হবে আগামী পরশু দিন আপনার গরুর সিরিয়াল।

    ২) জনগণকে খুব বিনয়ী হবে। এত গরুর ভিড়ে গরু চেঞ্চ হয়ে গেলেও মারামারি করা যাবে না। একজনের মাংশ অন্যজনের কাছে গেলে কিংবা মাংশ কম পেলে মারামারি করা যাবে না।

    ৩) যেহেতু সরকারী লোকজন মাংশ বণ্টনের বিষয়টিও দেখবে, তাই কোরবানী মাংশ বাসায় নেওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে। অস্ত্রে মুখে যদি কেউ মাংশ নিয়ে যায়, তবে প্রতিবাদ করা যাবে না।

    ৪) গরুর মধ্যে শুধু নম্বর থাকবে, কিন্তু পাবলিক মাঠে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এত (গরু প্রতি ৫ জন) পাবলিক থাকলে মানুষের ভীড়ে গরু প্রসেসিং সম্ভব নয়। তাই ১০০ কেজির গরু পাঠিয়ে যদি সরকারি লোকজন ৫ কেজি মাংশ ফেরত দেয় তবে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

    ৫) বাংলাদেশের বেশিরভাগ গরু ৭ ভাগে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মাংশ পাওয়ার পর ফের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেটাও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

    ৬) এত কাজের ভীড়ে চামড়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই চামড়ার দায়িত্ব আগে থেকেই ছাত্রলীগকে বুঝিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

    ৭) যেহেতু স্পট অনেকের বাসা থেকেই দূরে হবে, তাই এত মাংশ বহন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারিভাবে যদি লক্ষ লক্ষ গাড়ির ব্যবস্থা থাকে তবে সেটা সম্ভব। আর যদি সরকার গাড়ির ব্যবস্থা না করে তবে ঈদের দিন ছেলে-মেলে-জামাই-বউ মিলে কান্ধে করে গরু মাংশ বাসায় নিয়ে আসতে হবে।

    ৮) এক যায়গায় একাধিক গরু প্রসেসিং করলে সেখানে রক্ত জমে যাবে। তাই পুনরায় ব্যবহার করার আগে পানি দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে। এজন্য সরকারীভাবে ওয়াসাকে কয়েক লক্ষ পানির গাড়ি রেডি রাখতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে- মাটির মাঠে পানি দিলে কিন্তু কাদা হয়ে যাবে। তাই রক্ত-কাদার মধ্যেই সব সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে।

    ৯) জনগণকে খুব সহনশীল হতে হবে। সরকার কসাই বাবদ যে ফিক্সড মূল্য ঠিক করে দিয়েছে সেটার কমবেশি করতে পারবে না। কসাই যতটুকু কাজ করবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারণ কসাইকে আরো গরু প্রসেসিং করতে হবে।

    ১০) পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১ লক্ষ (শুধু ঢাকা শহরের জন্য) পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হবে, তবে সেনাবাহিনী নিয়োগ দিলে আরো ভালো হয়। কারণ এত বড় একটি প্রক্রিয়া চালানোর সময় যদি মারামারি হয় তবে বড় ধরনের ম্যাসাকার হওয়া সম্ভবনা থাকবে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশ-সেনাবাহিনী ছাড়া কারো পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

    ১১) পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার কোটির টাকার বাজেট প্রয়োজন হবে। সামান্য একটি মাঠের মধ্যে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় (যে মাঠ ছিলো আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে) সরকারি বাহিনী নিয়ম শৃঙ্খলা মেইনটেইন করতে পারেনি। সামান্য ৫ মিনিটের গানের জন্য যদি সামান্য নিয়ম মেইনটেইন করা না যায়, তবে গরু প্রসেসিং এর মত এত জটিল একটি প্রক্রিয়া সরকার কিভাবে মেইনটেইন করবে, সেটা নিয়েও চিন্তা করতে হবে। উপরের সকল আয়োজন শুধু সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের কাজ সহজ করে দেওয়ার জন্য। যেন তারা সহজে কোরবানীর আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারে। সরকারের এই মহাযজ্ঞ অনেক কঠিন। আমি বোকা সোকা মানুষ। আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম তবে এত কষ্ট করতাম না। শুধু একটা নোটিশ দিতাম- ঈদের দিন সন্ধা ৬টার মধ্যে যার যার বাসার সামনে রক্ত-ময়লা পরিষ্কার করতে হবে, এবং নিদ্দিষ্ট স্থানে ময়লার কনটেইনার রাখা আছে সেখানে ময়লা পৌছে দিতে হবে। জনগণকে নিজ দায়িত্বে কাজ করতে হবে। এটাই সরকারি আদেশ। ব্যস দেখতেন প্রত্যেক মানুষ নিজ দায়িত্বে ময়লার কন্টটেইনারে ময়লা রেখে আসছে, সিটি কর্পোরেশন কর্মীরা এসে শুধু গাড়ি তুলে নিয়ে যাবে। এত মহাযজ্ঞ করার কোন মানে হয় না, প্রথম দিনেই সব সাফ।

    More
  • 3. পবিত্র কুরবানী কাকে বলে?
     

    اضحية বা পবিত্র কুরবানী শব্দটি একবচন। বহুবচনে اضاحىএর আভিধানিক অর্থ কুরবানী, উৎসর্গ, পবিত্র কুরবানী উনার পশু ঈদুল আদ্বহার দিন যা যবেহ করা হয়। শরীয়ত উনার পরিভাষায় খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট প্রাণী যবেহ করার নাম পবিত্র কুরবানী। অর্থাৎ পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন দিনে দুম্বা, মেষ, ভেড়া, খাসী, ছাগল, উট, গরু, মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত হালাল চতুষ্পদ প্রাণীসমূহকে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করে উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে যবেহ করাকে পবিত্র কুরবানী বলে।

    পবিত্র কুরবানী উনার বিধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- اِنَّا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ‌. فَصَلِّ لِرَ‌بِّكَ وَانْـحَرْ.‌অর্থ :“হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার বা বহু কল্যাণ হাদিয়া করেছি। অতএব, (এর শুকরিয়া স্বরূপ) আপনি নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন।”(পবিত্র সূরা কাওছারশরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ১, ২) উল্লেখ্য, পবিত্র কুরবানী উনার বিধান শুধু আমাদের জন্যেই দেয়া হয়েছে তা নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতের প্রতিও উনার বিধান প্রবর্তিত ছিল। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ‌অর্থ :“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ তায়ালাউনার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালাউনার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নামে পশু কুরবানী করে।”(পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)

    More
  • 4. এনথ্রাক্সের ভয় দেখিয়ে যারা লোকজনকে গরু কুরবানি করতে নিরুৎসাহিত করছে তারা হয় ভারতের দালাল অথবা নিরেট মূর্খ!
     

    কুরবানি আসলেই এনথ্রাক্সের দেখা মেলে। অন্যসময় তার হদিশই পাওয়া যায় না। এনথ্রাক্স কি তাহলে কুরবানির জন্য স্পেশাল?
    না, অন্যসময়ও এনথ্রাক্স থাকে তবে তখন তাকে ডাকা হয় “গরুর তড়কা রোগ” নামে; যা কোন নতুন রোগ না। রোগটা এতই পুরাতন যে, গবাদি পশুপালনকারী মাত্রই এর সম্মন্ধে জানে। সিরাজগঞ্জ জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, “আক্রান্ত গরু ঢাকায় আসার কোনো আশঙ্কা নেই। রওনা দিলেও মৃত্যুবরণ করবে, কারণ আক্রান্ত হওয়ার তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে গবাদিপশু মারা যায়। গরুর দুধ খেয়েও অ্যানথ্রাক্স হওয়ার আশঙকা নেই।” আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাংস যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ তাপ যেন মাংসের ভেতরে ভালো করে ঢোকে। সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার পরও একই তাপমাত্রায় মাংস চুলার ওপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। যদিও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অত্যন্ত শক্তিশালী; কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় যেকোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়।”
    সুতরাং এনথ্রাক্সের ভয় দেখিয়ে যারা লোকজনকে গরু কুরবানি করতে নিরুৎসাহিত করছে তারা হয় ভারতের দালাল অথবা নিরেট মূর্খ!

    More
  • 5. কুরবানী সম্পর্কিত জরুরি মাসয়ালাসমূহের সংকলন
     

    সুওয়াল: কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?

    জাওয়াব: যিলহজ্জ মাসের দশ, এগার, বার অর্থাৎ দশ তারিখের সুবহে সাদিক হতে বার তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নিসাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়েজে আসলিয়াহ্ (নিত্যপ্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
    উল্লেখ্য যে, যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নিসাব পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে তার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে।

    সুওয়াল: ওয়াজিব ও নফল কুরবানী, ওলীমা ও আক্বীকা এক সাথে জায়িয হবে কিনা?

    জাওয়াব: হ্যাঁ, জায়িয হবে।

    সুওয়াল: আইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে কুরবানীর পশু কুরবানীকরার পূর্বে অথবা কুরবানী করার সময়ে হাঁস, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করা জায়িয আছে কি?

    জাওয়াব: মুসলমানদের আইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে যারা মজুসী বা অগ্নী উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবা বা সাদৃশ্য রেখে কোরবানীর দিন হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
    من تشبه بقوم فهو منهم.
    অর্থ: “যে, যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।”
    আর যদি কোনো মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ্ তাহ্রীমী হবে, যেহেতু এটাও মোশাবাহ্ হয়ে যায়।
    আর যদি কোনো মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ্ তান্যিহী হবে। আর এমন কোনো মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগী ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেন সুব্হে সাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ্ করে, কেটে, পাক করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ্ করে, কেটে রেখে দিবে পরে পাক করলেও চলবে।

    সুওয়াল: কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয আছে কি?

    জাওয়াব: কুরবানীর পশু অথবা অন্য যে কোনো হালাল পশুই হোক, তা যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয নেই। এমনিভাবে বাঁটে দুধ থাকতে, ঝিনুকে মুক্তা থাকতে, মেষের পিঠে লোম থাকতে, সে দুধ, মুক্তা, লোম বিক্রি করা নাজায়িয।

    সুওয়াল: হালাল পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ?

    জাওয়াব: কুরবানী বা হালাল পশুর ৮টি জিনিস খাওয়া যাবে না। (১) দমে মাছফুহা বা প্রবাহিত রক্ত হারাম, (২) অন্ডকোষ, (৩) মুত্রনালী, (৪) পিত্ত, (৫) লিঙ্গ, (৬) গুহ্যদ্বার, (৭) গদুদ বা গুটলী মাকরূহ্ তাহ্রীমী, (৮) শিরদাড়ার ভিতরের মগজ, এটা কেউ মাকরূহ্ তাহ্রীমী, আবার কেউ মাকরূহ্ তান্যিহী বলেছেন।
    সুওয়াল: কুরবানীর কিছুদিন আগে নাকি হাত ও পায়ের নখ কাটা, মোছ ছাঁটা এবং মাথার চুল ইত্যাদি কাটা যায় না? কুরবানী করার পর কাটতে হয়! কথাটা কতটুকু সত্য? বিস্তারিত জানাবেন।

    জাওয়াবঃ হ্যাঁ, যারা কুরবানী দেয়ার নিয়ত রাখেন, তাদের পক্ষে যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে এই চাঁদের দশ তারিখ কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল, হাতের ও পায়ের নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। যেমন হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
    عن ام سلمة عليهاالسلام قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من راى هلال ذى الحجة و اراد ان يضحى فلا ياخذ من شعره ولا من اظفاره.
    অর্থঃ- “হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেন (কুরবানী না করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ)
    মূলত, ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো এ হাদীছ শরীফ।
    যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে,
    عن عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم امرت بيوم الاضحى عيدا جعله الله لـهذه الامة قال له رجل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت ان لم اجد الا منيحة انثى افاضحى بـها قال لا ولكن خذ من شعرك واظفارك وتقص شاربك وتحلق عانتك فذلك تمام اضحيتك عند الله.
    অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মাদী মানীহা (উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানীর জন্য না পাই, তাহলে আপনি কি (আমাকে) অনুমতি দিবেন যে, আমি উক্ত মাদী মানীহাকেই কুরবানী করবো। জবাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না। তুমি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবে না। বরং তুমি কুরবানীর দিনে তোমার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবে। তোমার গোঁফ খাট করবে এবং তোমার নাভীর নিচের চুল কাটবে, এটাই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তোমার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা তুমি মহান আল্লাহ্ পাক উনার নিকট কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবে।” (আবু দাউদ শরীফ)
    উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানীর ছওয়াব পাবে।

    সুওয়াল: বর্তমান সময়ে কোনো ব্যক্তি যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি কুরবানী দেয় অথবা গরু, মহিষ, উটের সাত নামের মধ্যে যদি এক নাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে দেয়, তবে উক্ত নামের গোশ্তের হুকুম কী? এটা কি সকলে খেতে পারবে? অথবা এ গোশ্ত অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভুুক্ত হবে কি-না?

    জাওয়াব: হ্যাঁ, উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলে খেতে পারবে। আর এটা অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা হাদীছ শরীফ-এ আছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বিশেষভাবে কুরবানী করার জন্য যে নির্দেশ দিয়েছেন এটা উনার জন্যই খাছ। বর্তমান সময়ে কোনো ব্যক্তি যদি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কুরবানী দেয়, তবে এটা তার ফযীলত, তথা বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহ্মত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি লাভ করা ও তার কুরবানী কবুল হওয়ার একটি উসীলা হবে।
    কাজেই মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে যদি কেউ কুরবানী দেয়, তবে উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলেই খেতে পারবে।

    সুওয়াল: কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত জানালে খুশি হবো।

    জাওয়াব: কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবে না। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
    কুরবানীর নিয়ত: (যবেহ করার পূর্বে)
    انى وجهت وجهى للذى فطر السموت والارض حنيفا وما انا من المشركين ان صلاتى ونسكى ومحياى ومماتى لله رب العلمين لا شريك له وبذلك امرت وانا من المسلمين. اللهم منك ولك. উচ্চারণ: ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। এ দোয়া পড়ে বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করতে হবে।
    যবেহ করার পর এ দোয়া পড়বে-
    اللهم تقبله منى كما تقبلت من حبيبك سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وخليلك سيدنا حضرت ابراهيم عليه السلام
    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খলীলিকা হযরত ইবরাহীমা আলাইহিস সালাম।
    যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে মিন্নী বলতে হবে। আর যদি অন্যের কুরবানী হয়, তবে মিন শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয়, তাহলে মিন্নী ও বলবে, অতঃপর মিন বলে অন্যদের নাম বলতে হবে।
    কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে জবেহ করার সময় শুধু বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিত উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে কুরবানী করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

    সুওয়াল: যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এক নামে কুরবানী দিয়ে গোশ্ত বণ্টন করে নিতে পারবে কিনা?

    জাওয়াব: হ্যাঁ, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কুরবানী দিয়ে গোশ্ত বণ্টন করে নিতে পারবে। তবে কুরবানীর পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।
    গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে কুরবানী দুরস্ত হবেনা। আর সাত নামের কমে কুরবানী করলে দুরস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশি নামে কুরবানী করলে কারো কুরবানী দুরস্ত হবে না।
    যেমন- যদি ৪০ জন ব্যক্তি ৫০০ টাকা করে ২০০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে।
    তদ্রƒপ একটা খাসি তিনজনে মিলে টাকা দিয়ে খরীদ করে, যদি এক নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানীও শুদ্ধ হবে।
    এখন প্রশ্ন হলো- যারা সম্মিলিতভাবে টাকা দিয়ে কুরবানী করতে চায়, তারা কার নামে কুরবানী করবে?
    এর জাওয়াব হচ্ছে- এরূপ কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই যেহেতু নিজস্ব নামে কুরবানী করতে চাইবে, কুরবানীর ফযীলত হাছিলের জন্য। আর গরু, মহিষ ও উটে সাত নামের বেশি এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বাতে এক নামের বেশি দেয়া যায় না। কার নাম দিবে বা কার নাম বাদ দিবে, এ নিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হবে। এছাড়াও যদি কারো নামে দেয়া হয়, অন্য কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি না করে কিন্তু অন্তরে সম্মতি না থাকে তাহলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না। কারণ একজনের টাকা দিয়ে অন্যজনের নামে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না। টাকাওয়ালার সম্মতি ব্যতীত। এজন্য উত্তম ও আদব হচ্ছে- এক নাম দিলে মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক দেয়া। এরপর অন্য কারো নাম দিলে যাদের মাধ্যমে কুরবানীর বিধান চালু হয়ে আসছে, যেমন- হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম, হযরত ইসমাইল আলাইহিস্ সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম উনাদের নাম মুবারক-এ কুরবানী দেয়া উত্তম। আরো বেশি নামে কুরবানী দিলে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নাম মুবারক-এ কুরবানী করা যেতে পারে।

    সুওয়াল: মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা জায়িয কিনা?
    জাওয়াব: কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ করতে হবে। যেমন- بسم الله الله اكبر
    উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে কুরবানী করতে হবে।
    এখন যদি কেউ কোনো ব্যক্তির নামে, হোক সে জীবিত অথবা মৃত-এর নামে করে, যেমন- “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” এর পরিবর্তে আব্দুর রহীম, আব্দুল করীম, বকর, যায়িদ, আমর ইত্যাদি নামে কুরবানী করে, তাহলে কুরবানী অশুদ্ধ হবে। উক্ত পশুর গোশ্ত খাওয়াও হারাম হবে ও সাথে সাথে কুফরী ও কবীরা গুনাহ হবে। মূলত, কুরবানী একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এই করতে হবে। তবে পশুতে সাত নাম ও এক নাম দেয়ার কথা যে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলো- সাতজন অথবা একজন (চাই তারা জীবিত হোক অথবা মৃত হোক)-এর তরফ থেকে বা পক্ষ থেকে আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী করা।
    এ মাসয়ালাটি না বুঝার কারণে অনেকে সরাসরি বলে থাকে, কুরবানীর পশুতে মৃত পূর্ব পুরুষদের নাম দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

    সুওয়াল: যে সকল মাদরাসার লিল্লাহ্ বোডিংয়ে যাকাত, ফিতরা ও কুরবানীর চামড়া তোলা হয়, সে লিল্লাহ বোডিংয়ে উক্ত মাদরাসার শিক্ষকগণ খেতে পারবে কিনা? এবং সে টাকা দ্বারা শিক্ষকদের বেতন দেয়া ও ছাত্রদের থাকা ও পড়ার জন্য মাদরাসা ঘর তৈরি করা জায়িয হবে কিনা? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।
    জাওয়াব: যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য ইত্যাদি গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীমদের হক্ব অর্থাৎ ওয়াজিব ছদ্কা (আদায় হওয়ার জন্য) গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীমদেরকে তার (ছদ্কার) মালিক করে দেয়া শর্ত। তাই যে সকল মাদাসায় লিল্লাহ বোডিং অর্থাৎ গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীম ছাত্র রয়েছে, সে সকল মাদরাসায় যাকাত, ফিতরা ও কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য দেয়া যেরূপ জায়িয, তদ্রƒপ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা লিল্লাহ্ বোডিংয়ে গ্রহণ করাও জায়িয।
    উল্লেখ্য, উক্ত ছদ্কার টাকা দিয়ে শুধুমাত্র ছাত্রদেরকে খাওয়ালেই চলবে না; বরং ছাত্রদেরকে তা’লীম দেয়ার জন্য ওস্তাদ বা শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে ও ছাত্রদের থাকার জন্য ঘরের দরকার রয়েছে, আর তার জন্যে টাকা-পয়সারও জরুরত রয়েছে। তাই সম্মানিত ফক্বীহ্গণ এরূপ ছদ্কার ব্যাপারে একটি সুন্দর সমাধান বা ফায়সালা দান করেছেন। অর্থাৎ উনারা বলেছেন, “ছদ্কার টাকা হিলা করা হলে, তা দ্বারা ওস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরি করা সবই জায়িয।”
    আর হিলার পদ্ধতি হলো- মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো গরিব, মিস্কীন বা ইয়াতীমকে উক্ত ছদ্কার টাকাগুলোর মালিক করে দিবে। অতঃপর উক্ত গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীম সে টাকাগুলো মাদরাসায় দান করে দিবে।
    অতএব, শুধুমাত্র উক্ত ছূরতেই ছদ্কার টাকা দিয়ে ওস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরি করা জায়িয ও শরীয়তসম্মত।

    সুওয়াল : অনেকে বলে থাকে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয়, তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না, এটা শরীয়তসম্মত কী-না? জানালে খুশি হবো।
    জাওয়াব: যারা বলে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয় তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না তাদের সে কথা শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের মাসয়ালা হলো, আক্বীকার পশুর গোশতের হুকুম কুরবানীর পশুর গোশতের হুকুমের মতো। কাজেই, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হবে তার গোশত পিতা-মাতাসহ সকলেই খেতে পারবে। এটাই শরীয়তসম্মত মাসয়ালা বা ফতওয়া।

    সুওয়াল : যে ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব, সে তার নিজের নামে কুরবানী না দিয়ে মৃত বা জীবিত পিতা-মাতার নামে কুরবানী দিলে তার নিজের কুরবানী আদায় হবে কিনা?
    জাওয়াব: আমাদের হানাফী মাযহাব মতে মালিকে নিছাব প্রত্যেকের উপর আলাদাভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তার পক্ষ থেকেই কুরবানী করতে হবে। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে তার নামে কুরবানী না করে মৃত বা জীবিত অপরের নামে কুরবানী করলে ওয়াজিব তরকের কারণে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। যদিও বাবা মা-এর নামে কুরবানী করে; যাদের প্রতি কুরবানী ওয়াজিব নয়।

    সুওয়াল : কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করে সে টাকা মসজিদ কিংবা ঈদগাহের ইমামকে দেয়া জায়িয হবে কিনা?

    জাওয়াব: মসজিদ ও ঈদগাহে ইমামতি করা বাবদ উক্ত টাকা ইমাম ছাহেবকে দেয়া জায়িয হবে না। অবশ্য ইমাম ছাহেব যদি ফিতরা ও কুরবানীর ছাহিবে নিছাব না হন, তাহলে দান হিসেবে উক্ত টাকা নিতে পারেন। কিন্তু ছাহিবে নিছাব হলে, তা নিতে পারবেন না। আর চামড়া বিক্রয় না করে পুরো চামড়াটিই যদি ইমাম সাহেবকে হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়, তবে ইমাম ধনী হলেও তা নিতে পারবেন। তবে চামড়া বিক্রি করলে তার মূল্য গরিব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দিতে হবে।

    সুওয়াল : যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদেরকে দেখা যায় যে, তারা ঈদ বা কুরবানীর দিনে কিছু লোক মিলে গরু বা ছাগল ইত্যাদি কিনে যবেহ করে গোশ্ত বণ্টন করে উক্ত দিনে খেয়ে থাকে, আবার কেউ কেউ হাটবাজার থেকে গোশ্ত কিনে উক্ত দিনে খেয়ে থাকে। এ সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কুরবানীর ছওয়াব লাভের কোনো উপায় আছে কি?
    জাওয়াব: হ্যাঁ, যে সকল লোক এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় অথচ তারা কুরবানীর দিনে কিছু লোক মিলে গরু, ছাগল ইত্যাদি কিনে গোশ্ত বণ্টন করে অথবা হাটবাজার থেকে গোশ্ত কিনে খেয়ে থাকে এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে। উল্লেখ্য, যারা কুরবানী দেয় না, তাদের অনেকেই সাধারণভাবে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি রান্না করে থকে। আবার যারা কুরবানী দেয়, তাদের অনেকেও হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ ও রান্না করে থাকে। সেক্ষেত্রে সকলেরই মনে রাখা উচিত যে, মুসলমানদের আইইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে যারা মজূসী বা অগ্নি উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে থাকে। এখন যদি কোনো মুসলমান তাদের সাথে মুশাবা বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিন হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-“যে ব্যক্তি, যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    আর যদি কোনো মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ তাহরীমী হবে, যেহেতু এটাও মোশাবাহ হয়ে যায়।
    আর যদি কোনো মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ তানযীহী হবে। আর এমন কোনো মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেনো ছুবহে ছাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ করে কেটে পাক করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ করে কেটে রেখে দিবে, পরে পাক করলেও চলবে। অপরদিকে যারা কুরবানী দেয় না, তাদের অনেকে বাজার থেকে গরু, মহিষ ইত্যাদির গোশ্ত ক্রয় করে থাকে।
    অতএব, এ সকল ব্যক্তিদের করণীয় হচ্ছে- তারা হাটবাজার থেকে গোশ্ত না কিনে বরং কিছু লোক মিলে গরু বা ছাগল ইত্যাদি কিনে এক বা একাধিক নামে কুরবানী করা। কুরবানীর পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে। গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে কুরবানী দুরুস্ত হবে না। আর সাত নামের কমে কুরবানী করলে দুরুস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশী নামে কুরবানী করলে কারো কুরবানী দুরুস্ত হবে না। যেমন- যদি ৪০ জন ব্যক্তি ৫০০ টাকা করে ২০,০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে। তদ্রƒপ একটা খাসি তিনজনে মিলে পয়সা দিয়ে খরীদ করে, যদি এক নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানী শুদ্ধ হবে। তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরনের কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে কুরবানী দিতে তখন অবশ্যই ফিতনা ও সমস্যার সৃষ্টি হবে। সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে আফযল ও উত্তম তরীক্বা হচ্ছে এই যে, যদি ছাগল কিংবা গরু এক নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে তা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশ্ত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তা তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহ্মত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের খাছ সন্তুষ্টি লাভ করার উসীলাও হবে। জানা আবশ্যক যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন। সুতরাং উম্মতেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য যে, সামর্থ্য থাকলে উনার পক্ষ হতে কুরবানী দেয়া। মূলত, এ ব্যাপারে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশবাণীও পাওয়া যায়।
    যেমন- হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খাছভাবে এ নির্দেশ দিয়ে যান যে, তিনি যেনো প্রতি বছর উনার নাম মুবারকে কুরবানী দেন। উল্লেখ্য, এ সকল শরীকী কুরবানীর ক্ষেত্রে যে সকল প্রাণীতে শুধু এক নামে কুরবানী করা যায়, তাতে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী দেয়া উচিত এবং তা উত্তম ও ফযীলতের কারণ বটে। কিন্তু যে সকল প্রাণীতে সাত নামে কুরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে প্রথমতঃ এক নাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে এবং বাকী ছয় নামের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নাম মুবারক থেকে ইচ্ছে মুতাবিক কুরবানী দিতে পারে। তাহলে এতে কোনো ফিতনা পয়দা হবে না। সাথে সাথে কুরবানীর দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে- কুরবানী করা, তাও আদায় হলো। আর কুরবানীর বরকতময় গোশতও লাভ হলো। সাথে সাথে গুনাহর কাজ থেকেও বেঁচে গেলো।

    সুওয়াল : কুরবানীর পশুর দুধ, গোবর ও রশি দ্বারা ফায়দা লাভ করা জায়িয আছে কি?
    জাওয়াব: সাধারণতঃ কুরবানীর পশুর দ্বারা কোনো প্রকারের ফায়দা লাভ করা জায়িয নেই। যেমন- (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা, (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা, (৩) কুরবানীর পশু হাল চাষের কাজে ব্যবহার করা, (৪) কুরবানীর পশু দ্বারা বোঝা বহন করানো, (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা, (৬) কুরবানীর পশুর গোবর দ্বারা ফায়দা লাভ করা, (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা লাভ করা। উল্লেখ্য, (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা জায়িয নেই, তবে যদি কুরবানীর পশুর পানীয় ও ঘাসের বন্দোবস্ত করানোর জন্য আরোহণ করে কোথাও যায়, তাতে কোন ক্ষতি নেই। অথবা পালিত পশু যদি হয়, যার উপর মালিক পূর্ব থেকেই আরোহণ করতো এখন মালিক তা কুরবানী দেয়ার নিয়ত করেছে, তাতে আরোহণ করলেও ক্ষতি হবে না। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে কুরবানী করে দিতে হবে, আরোহণ করার জন্য রাখা যাবে না। (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা জায়িয নেই। যদি কেউ বিক্রি করে, তবে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তা কুরবানীর পূর্বে হোক বা কুরবানীর পরে হোক। আর কুরবানীর পর কুরবানীর পশুর পশম থেকে ফায়দা হাছিল করতে পারবে অর্থাৎ নিজ কাজে ব্যবহার করতে পারবে অথবা কাউকে হাদিয়াও দিতে পারবে। যেমন পশমী কম্বল ও চাদর ইত্যাদি। (৩) কুরবানীর পশুকে হালের কাজে ব্যবহার করা জায়িয নেই। হ্যাঁ, যদি কেউ হালের গরুকে কুরবানী দেয়ার নিয়ত করে যে, আমি হালের এই গরুটি আগামী ঈদের দিনে কুরবানী করবো, তাহলে কুরবানীর দিনের পূর্ব পর্যন্ত হালের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে, হালের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আর রাখা যাবে না। (৪) কুরবানীর পশুর দ্বারা বোঝা বহন করা জায়িয নেই। তবে উক্ত পশু পালিত হলে বোঝা বহন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তখন আর বোঝা বহনের জন্য রাখা যাবে না। কুরবানী করে দিতে হবে। (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা বা বিক্রি করা জায়িয নেই। যদি কেউ পান করে বা বিক্রয় করে তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। কিন্তু যদি উক্ত প্রাণীর দুধ মালিক পূর্ব থেকেই পান করে বা বিক্রয় করে আসছে অর্থাৎ পালিত পশু যদি হয়, তাহলে দুধ পান করতে বা বিক্রয় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তা কুরবানী করে দিতে হবে। (৬) কুরবানীর পশুর গোবরের হুকুমও দুধের অনুরূপ। স্মরণীয় যে, কুরবানীর পশু যদি আইইয়ামে নহরের মধ্যে কিনে এনে সাথে সাথে কুরবানী করে, তাহলে তা থেকে কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি কুরবানী পশুর দুধ, গোশত, পশম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা হাছিল করে, তাহলে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তবে যদি আইয়্যামে নহরের দু’চারদিন আগে কিনে এনে পশুকে খাওয়ায় বা পান করায়, তাহলে তার দ্বারা ফায়দা হাছিল করতে পারবে যেমন- উক্ত পশু দুধ দিলে তাও পান করতে পারবে খাদ্যের বিনিময়ে। (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি এ সমস্ত দ্রব্য দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করে, তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে।
    সুওয়াল : কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রয় করে নিজের বা পরিজনের জন্য খরচ করা যাবে কি?
    জাওয়াব: কেউ যদি পশু কুরবানী দিয়ে নিজেই তার চামড়া বিক্রি করে, তবে উক্ত চামড়ার মূল্য ছদকা করে দেয়া তার জন্য ওয়াজিব।
    উক্ত চামড়ার টাকা নিজের বা পরিবারের কাজে ব্যয় করা মাকরূহ তাহ্রীমী এবং এতে কুরবানী কবুল না হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    সুওয়াল : মুসাফিরের উপর কি কুরবানী করা ওয়াজিব?
    জাওয়াব: কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে- (১) মুসলমান হওয়া, (২) স্বাধীন হওয়া, (৩) মুক্বীম হওয়া, (৪) বালেগ হওয়া, (৫) মালিকে নেছাব হওয়া। কাজেই মুসাফিরের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, যদিও সে মালিকে নেছাব হোক না কেন। কিন্তু যদি সে কুরবানী করে, তবে আদায় হয়ে যাবে।

    সুওয়াল : হারাম মাল কামাই করে ধনী হয়েছে- এমন ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হবে কি? কুরবানী ওয়াজিব হবে কি?
    জাওয়াব: না, হজ্জ ফরয হবে না। কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার ও কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য ছাহিবে নিসাব হওয়া শর্ত। এখন যেহেতু হারাম উপায়ে অর্জিত মাল তার নিজস্ব নয়, তাই তার উপর হজ্জ ফরয হবে না, কুরবানী ওয়াজিব হবে না।
    বরং তার প্রধান ফরয হলো- যাদের থেকে হারাম উপায়ে মালগুলো নেয়া হয়েছে, তাদের এ সকল মাল ফেরত দেয়া।

    সুওয়াল : কোনো কোনো গ্রামে-গঞ্জে বা মহল্লায় দেখা যায়, সেখানে যত পশু কুরবানী করা হয় প্রত্যেক কুরবানীদাতার কুরবানীকৃত পশুর এক তৃতীয়াংশ গোশত এক স্থানে জমা করে উক্ত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জমাকৃত গোশতগুলিকে এলাকার গরিব মিসকীন ও ধনী অর্থাৎ যারা কুরবানী করেছে আর যারা কুরবানী করেনি তাদের প্রত্যেককেই সমহারে বণ্টন করে দেয়। প্রশ্ন হলো, এই বণ্টনের কারণে গরিব মিসকীনের হক কি নষ্ট হয় না? যদি নষ্ট হয় তবে এর জন্য কে জবাবদিহি করবে বা কে দায়ী থাকবে?
    জাওয়াব: কুরবানীকৃত পশুর গোশত কুরবানীদাতার জন্য আত্মীয় স্বজনকে হাদিয়াস্বরূপ দেয়া বা গরিব মিসকীনকে দান করা ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কোনটাই নয়। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- “কুরবানীর গোশত বণ্টন করার মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখবে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য হাদিয়াস্বরূপ দিবে আর এক তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকীনের জন্য দানস্বরূপ দিবে। আর যদি কুরবানীকৃত পশুটি ওছিয়তকৃত হয়ে থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই গরিব-মিসকীনকে দান করে দিতে হবে।” অর্থাৎ কুরবানীদাতার জন্য কুরবানীকৃত পশুর গোশ্ত কাউকেও দেয়া বা না দেয়া তার ইখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত। সে ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই দান করে দিতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই রেখে খেতে পারে। এতে কুরবানীর কোনো ত্রুটি হবে না।
    তবে একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্যণীয় তা হলো- কুরবানীদাতা যদি এমন কোনো পশু “কুরবানী করে থাকে যার গোশ্ত- ১০/১২ কেজি বা তার চেয়ে কম হয় অথবা শরীকে কুরবানী দিয়েছে, সেখান থেকে সে ১০/১২ কেজি গোশ্ত বা তার চেয়ে কম পেয়েছে। অথচ তার বাড়ীতে স্ত্রী-পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি মিলে তার অধীনে প্রায় ২০/২৫ জন রয়েছে। যাদের ভরণ-পোষণ করার দায়িত্ব তার। তখন সে কুরবানীদাতার জন্য ফরয হবে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের দিনে খাওয়ার ব্যবস্থা করা। এখন যদি কুরবানীদাতা যে গোশ্ত পেয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী সব বণ্টন করে দেয় তাহলে দেখা যাবে তার ঘরে মাত্র প্রায় চার কেজি বা তা চেয়ে কম গোশ্ত থাকবে। যা দিয়ে সে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের তিন দিনের প্রথম দিনই তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না। এখন তার জন্য উত্তম হবে এবং ফযীলতের কারণ হবে গোশত বণ্টন করে না দিয়ে সবটাই রেখে অধীনস্থ লোকদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।
    হ্যাঁ, এরপরও কথা থেকে যায় সেটা হলো- যদি কুরবানীদাতা ও তার অধীনস্থ সকলেই আল্লাহ্ পাক-উনার সন্তুষ্টির জন্যে এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী গোশ্ত অথবা সম্পূর্ণ গোশ্ত মহান আল্লাহ্ পাক-উনার রাস্তায় দান করে দেয় তাহলে অবশ্যই সেটা আরো উত্তম, আরো ফযীলতের কারণ। উল্লেখ্য, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ ও মুস্তাহাব সুন্নত, তরতীব মতো আমল করাই সবচাইতে ফযীলতপূর্ণ ও মর্যাদার কারণ। কুরবানীদাতা যদি এমন হয় যার স্ত্রী, পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি যাদের ভরণ-পোষণ তার যিম্মাদারিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা ৮/১০ জন। আর কুরবানীদাতা একাই দুই তিনটা গরু কুরবানী করল যা থেকে সে গোশ্ত পেল প্রায় ৮/১০ মণ বা তার চেয়ে বেশি। এখন এ থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত রাখলেও তার অধীনস্থ লোকদের পক্ষে অনেকদিন ধরে খেয়েও শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই এ কুরবানীদাতা যদি দুই তৃতীয়াংশের পরিবর্তে নয় দশমাংশ অর্থাৎ দশ ভাগের নয়ভাগই দান করে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
    উল্লেখ্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি প্রকৃতপক্ষেই গরিব-মিসকিনদের উপকার করতে চায় তাহলে তাদের উচিত হবে এলাকার ঐ সমস্ত কুরবানীদাতাদের নিকট থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশত সংগ্রহ করা, যারা এক তৃতীয়াংশ গোশত দেয়ার পরও তাদের পরিবার বা অধীনস্থদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গোশত থেকে যায়, অথবা যারা স্বেচ্ছায় দান করে। যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত নেই অর্থাৎ যারা এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত দিয়ে দিলে তারা তাদের পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকেই ঈদের দিন তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না এমন ব্যক্তির নিকট থেকে জবরদস্তি করে গোশত সংগ্রহ করলে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহই হবে। আর বণ্টনের ক্ষেত্রে ঐ সমস্ত লোকদেরকে গোশ্ত দিতে হবে যারা কুরবানী দেয়নি অথবা যদি কুরবানী দিয়েও থাকে তথাপিও তারা চাহিদা মুতাবিক গোশত পায়নি। কুরবানী দেয়ার কারণে যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত রয়েছে তাদেরকে মিসকীনের অংশ থেকে গোশত দেয়া কখনই নেকীর কাজ হবে না। আরো উল্লেখ্য, এলাকাবাসী যদি গরিব-মিসকীনকে বণ্টন করে দেয়ার জন্যই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে গোশত দিয়ে থাকে। তাহলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে- শুধুমাত্র গরিব-মিসকিনদের মধ্যেই উক্ত গোশ্ত বণ্টন করে দেয়া। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি বিপরীত কাজ করে তাহলে তারাই গরিব-মিসকীনের হক নষ্টকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং এর জন্য তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে। আর তারাই দায়ী থাকবে।

    সুওয়াল : বন্য গরু বা মহিষের দ্বারা কুরবানী দেয়া জায়িয আছে কিনা?
    জাওয়াব : বন্য পশু গরু হোক, মহিষ হোক তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় বা জায়িয হবেনা। কারণ কুরবানীর জন্য গৃহপালিত পশু হওয়া শর্ত।
    যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানী নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ঐ নির্দ্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) আল্লাহ পাক-উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন।” (সূরা হজ্জ: আয়াত শরীফ ৩৪)
    উল্লেখ্য, পশুর নছব বা পরিচিতি হলো- মায়ের দ্বারা। অর্থাৎ পশু গৃহপালিত বা জংলী তা চেনার জন্য সহজ পন্থা হলো- যে পশুর মা গৃহপালিত হবে, সে পশুটি গৃহপালিত বলে গণ্য হবে। আর যে পশুর মা জংলী হবে, সে পশুটি জংলী বলে গণ্য হবে।
    গৃহপালিত ছাড়া অন্যান্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবে না। তা হরিণ হোক অথবা বন্য গরু, ছাগল, বকরী, ভেরা ইত্যাদি যাই হোক না কেন।

    সুওয়াল : ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী মাদ্রাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে কি?
    জাওয়াব : ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী মাদ্রাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কুরবানীর চামড়া দেয়ার উত্তম স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’।
    কুরবানী প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” (সূরা কাওছার : আয়াত শরীফ ২)
    মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন- “প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি যবেহ্র বিধান দিয়েছিলাম যা তারা অনুসরণ করে। সুতরাং আপনার সাথে এ ব্যাপারে বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া তাদের উচিত নয়।” (সূরা হজ্জ : আয়াত শরীফ ৬৭)
    কুরবানী একটি ঐতিহ্যবাহী শরয়ী বিধান ও ইসলামী কাজ। যা উম্মতে হাবীবী ছল্ল্াল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ওয়াজিব। কাজেই কুরবানী দেয়ার সাথে সাথে কুরবানীর চামড়া সঠিক স্থানে দেয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
    উল্লেখ্য, কুরআন শরীফে সবস্থানে মহান আল্লাহ পাক তিনি আগে ‘ঈমান’ আনার কথা বলেছেন পরে ‘আমলের’ কথা বলেছেন।
    এক খোদা তায়ালা উনাকে প্রায় সবাই মানে কিন্তু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না মানার কারণেই অর্থাৎ আক্বীদার পার্থক্যের কারণেই পৃথিবীতে মুসলমান ব্যতীত হাজারো বিধর্মী তথা কাফিরের দল রয়েছে। কুরআন শরীফ-এর ভাষায় তারা সবাই জাহান্নামী যদি তওবা-ইস্তিগফার করে ঈমান না আনে।
    স্মরণীয় যে, শুধু কাফির সম্প্রদায়ই নয়, মুসলমান নামধারী অনেক মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির, শাইখুল হাদীছ, ইমাম, খতীব তথা অনেক ইসলামী দলও রয়েছে যাদের মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আক্বীদা খারাপ রয়েছে। কাজেই তারা মুসলমান নামধারী হলেও তারা মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা ইসলামী দল নামধারী হলেও আসলে তারা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
    উল্লেখ্য, ইসলামে মৌলবাদ, সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসবাদ হারাম। ইসলামের নামে ব্যবসা করা হারাম। ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দল করা হারাম। ইসলামের নামে নির্বাচন করা হারাম। ইসলামের নামে ভোট চাওয়া হারাম।
    আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোই হচ্ছে জামাতী, ওহাবী, খারিজী মতাদর্শের তথা সন্ত্রাসী তৈরির সূতিকাগার। ইসলামের দোহাই দিয়ে, ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হাছিলের প্রকল্প। ইসলামের নামে নির্বাচন করার ও ভোটের রাজনীতি করার পাঠশালা- যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
    কাজেই কুরবানীর চামড়া কোথায় দেয়া হচ্ছে তা দেখে দিতে হবে। জামাতী, খারিজী, ওহাবী ও সন্ত্রাসী-মৌলবাদী তথা ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে কুরবানীর চামড়া দিলে তা কস্মিনকালেও জায়িয হবে না।
    জামাতী, ওহাবী তথা সন্ত্রাসীদের মাদ্রাসায় কুরবানীর চামড়া দিলে তাতে বদ আক্বীদা ও বদ আমলের প্রচারে সহায়তা করা হবে। সন্ত্রাসী-জামাতী ও ধর্মব্যবসায়ী তৈরিতে সাহায্য করা হবে। তাতে লক্ষ-কোটি কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।
    মূলত, ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসায় কুরবানীর চামড়া, যাকাত-ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা না দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ তথা সন্তুষ্টির কারণ।
    এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ নির্দেশ করেন- ‘তোমরা নেক কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদ কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা’ (সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ ২)
    মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- “হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে কেউ একটা বদ কাজের সূচনা করলো যতজন তাতে শরীক হলো তাদের সবার গুনাহ যে বদকাজের সূচনা করেছে তার উপর গিয়ে পড়বে।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
    পত্রিকার রিপোর্টে পাওয়া যায়, জামাতী-খারিজীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসায় সংগৃহীত যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়ার মাধ্যমে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে। যা মূলত তাদের বদ আক্বীদা ও বদ আমল তথা ধর্মব্যবসার কাজেই ব্যয়িত হয়।
    অনুরূপভাবে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকেও কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কারণ তারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তা-ঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে। অথচ কুরবানীর চামড়া গরিব মিসকীনদের হক্ব। তা গরিব মিসকিনদের মালিক করে দিতে হবে।
    আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাকাতের একটি রশির জন্যও জিহাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই যাকাতের একটি রশির মতোই কুরবানীর একটি চামড়াও যাতে ভুল উদ্দেশ্যে ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
    মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “কুরবানীর রক্ত ও গোশত কিছুই আল্লাহ পাক উনার দরবারে পৌঁছায় না। পৌঁছায় তোমাদের বিশুদ্ধ নিয়ত।“ কাজেই বিশুদ্ধ নিয়তে কুরবানীর চামড়া ঠিক জায়গায় দিতে হবে। অনেকে পাড়ার মাস্তান, গু-া-পা-া, ছিনতাইকারী ও হিরোইনখোরদের ভয়ে বা হাতে রাখার উদ্দেশ্যে তাদেরকে কম দামে কুরবানীর চামড়া দেয়। এতে কিন্তু নিয়ত বিশুদ্ধ হবে না এবং কুরবানীও আদায় হবে না।
    তাই বর্তমান হিজরী শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, বর্তমানে হক্ব মত-পথ ও সুন্নতী আমলের একমাত্র ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’।
    কাজেই যাকাত-ফিতরা বা কুরবানীর চামড়া দিয়ে যারা ছদকায়ে জারীয়ার ছওয়াব হাছিল করতে চায় তাঁদের জন্য একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ ৫ নং আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

    (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।}

    More
  • 6. পশু কুরবানি ঠেকাতে মোদী সরকারের নির্দেশ!
     

    গবাদি পশু কোরবানি এবং পরিবহণের ওপরে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারতের রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কুরবানির ঈদে অবাধে গরু, বাছুর, উট এবং অন্যান্য পশুর নিধন যেন না হয়! নির্দেশ ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের।
    ওই চিঠিতে ‘অবৈধ উপায়ে’ গবাদি পশুর পরিবহণ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে।
    বৃহস্পতিবার এমন খবর দিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম।
    ঈদুল আযহা মুসলিমদের সবচেয়ে বড় দুই উৎসবের একটি। গবাদি পশু, উট, দুম্বা ইত্যাদি বিভিন্ন পশুর কুরবানি দেয়া হয় এ ঈদে।
    গো-রক্ষা এজেন্ডা নিয়ে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার যেভাবে গোটা দেশে হৈচৈ শুরু করেছে। তাতে কুরবানির ঈদের আগে ‘গো-হত্যার উপর কঠোর বিধিনিষেধ চাপানো প্রত্যাশিতই ছিল’ বলে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়।
    নবান্ন সূত্রের খবর গত ৪ জুলাই রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং রাজ্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছে ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের সচিব এম রবিকুমার। কুরবানির ঈদের কথা উল্লেখ করেই চিঠিটি লেখা হয়েছে।
    বোর্ডের সচিব লিখেছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সবক’টি রাজ্য সরকারকেই ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড ওই চিঠি পাঠিয়েছে। রাজ্য সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ, কোথাওই কুরবানির জন্য উট নিধন করতে দেয়া যাবে না। যে সব রাজ্যে গো-হত্যা রোধ আইন বলবৎ রয়েছে, সেই সব রাজ্যে গরুর কুরবানিও চলবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুরবানির ঈদের আগে যারা অবৈধভাবে পশুর পরিবহণ করছেন এবং ঈদের দিন যারা আইন ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    কী ব্যবস্থা সরকার নিল, তাও বিশদে কেন্দ্রীয় বোর্ডকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে চিঠিতে।
    কেন্দ্রের ওই চিঠির প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকারও। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে ভারতীয় পশু কল্যাণ বোর্ডের চিঠিটি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব নির্দেশ সম্বলিত চিঠিও। কেন্দ্রীয় বোর্ডের চিঠিতে যেভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, সেই অনুসারেই যেন কাজ হয়। নির্দেশ রাজ্য প্রাণীসম্পদ দফতরের।
    নবান্ন সূত্রের খবর, কুরবানির ঈদে এ রকম চিঠি প্রতি বছরই আসে। তবে এ বার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সঙ্ঘ তথা বিজেপি তো বটেই, কেন্দ্রীয় সরকারও গো-রক্ষার নীতিতে এখন বেশ সক্রিয়। তাই ঈদের প্রায় আড়াই মাস আগে রাজ্য সরকারের সচিবালয়ে পৌঁছে গিয়েছে চিঠি।
    পশু হত্যা বিরোধী আইন এবং আদালতের বিভিন্ন রায়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ উল্লেখ করা হয়েছে সেই চিঠিতে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথাও একাধিক বার লেখা হয়েছে।

    More
  • 7. Anthrax বা তড়কা রোগে আতংকিত হবার কিছুই নেই
     
    Anthrax তড়কা গরুর একটি স্বাভাবিক রোগ এবং এ রোগে আক্রান্ত গরু চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। “ এনথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর গোশত খেলে মানুষ মারাত্বক রোগাক্রান্ত হবে” ইহা দালাল মিডিয়ার অপপ্রচার মাত্র।
    তড়কা (Anthrax) একটি পুরোনো ব্যাধি। অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের ইতিহাস অনেক পুরনো। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৯১ সালেও মিসরে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল বলে জানা যায়। শুধু মিসর নয়, গ্রিস, রোম এমনকি ভারতবর্ষেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে এ রোগ ছিল। বাংলাদেশের গবাদিপশুতে এই রোগ বহু পূর্ব হতে পাওয়া গেছে, তবে মানুষে এই রোগের সংক্রমণ ২০০৯ সাল হতে অধিক হারে পাওয়া যাচ্ছে।যেসব প্রাণীর এ রোগ হয়: মূলত গরু এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
    বিষেশজ্ঞদের মতে, তড়কা এক ধরনের Acute রোগ যা Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার জন্য হয়ে থাকে এবং পশু ও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগ কখনোই মানুষ হতে আক্রান্ত হয়না।
    আমাদের দেশে কাটনিওয়াস টাইপের এনথ্রাক্স আক্রান্ত রোগির কথাই বেশি শুনা যাচ্ছে যাকিনা অতটা বিষাক্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে তড়কা (Anthrax) রোগের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি। পত্রপত্রিকা এবং অন্যান্য মিডিয়া এ সকল সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা এবং সতর্কতা অবলম্বন বাঞ্চনীয়। কারণ Anthrax নয়, Anthrax নামক আতংক জনমনে সংক্রামিত হলে গবাদিপশু পালনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
    তড়কা (Anthrax) রোগের উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সঠিক সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিগত বছর গুলোর মতই কম হত। শতকরা ৯৫% সংক্রমন ত্বকে হয়, যেখানে মৃত্যুর কোন সম্ভবনাই নাই। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মতে Anthrax রোগের মোকাবিলায় আমাদের প্রচুর ভ্যাকসিন এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ঔষুধ মজুদ আছে।
    তড়কা (Anthrax) একটি সহজ প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং প্রতিরোধের পরও যদি সামান্যতম ইনফেকশন হয় তবে তা সহজ চিকিৎসায় সম্পূর্ন নিরাময়যোগ্য। শুধুমাত্র জনগনের সচেতনতাই এ রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য যথেষ্ঠ।
    অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি, এফএসিপি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা” মতে তড়কা (Anthrax) রোগের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি।“http://goo.gl/aI5rJW
    এ সম্পর্কে-আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন-
    “রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে গোশত যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ তাপ যেন গোশত ভেতরে ভালো করে ঢোকে। সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার পরও একই তাপমাত্রায় গোশত চুলার ওপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। যদিও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অত্যন্ত শক্তিশালী; কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় যেকোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু বা অন্য প্রাণীর গোশত খেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই কম।”
    (সূত্র-http://goo.gl/8lx2D0)
    গোশত রান্না করার সময় যদি ৯৫ºসে. (২০৩º ফা.) ২৫ মিনিট ধরে অথবা ১০০º সে. (২১২º ফা.) ১৫ মিনিট ধরে রান্না করা হয় তাহলে এ জীবানু মারা যায় ।ফলে এ গোশত খেলে মানুষের ক্ষতি হবার কোন সম্ভাবনাই-ই নাই। তড়কায় ভড়কাবার কিছু নেই । দালাল মিডিয়া নিজেদের অজ্ঞতা ও মুর্খতাকে প্রকাশ করার জন্য এনথ্রাক্স নামক স্বাভাবিক একটি রোগকে অনেক বড় রোগ হিসেবে দেখাছে। দালাল মিডিয়ার এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সকলের উচিত দালাল মিডিয়ার এসকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করা।
    More
  • 8. পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উপলক্ষে মুসলমানের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নিকট আমার ১০টি দাবি
     

    ১। ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডসহ সারা দেশের মহল্লায় মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে মুসলমানরা সহজে, স্বল্প খরচে চাহিদা অনুযায়ী পবিত্র কুরবানীর পশু সংগ্রহ করতে পারে।
    ২। ঢাকা শহর থেকে দূরবর্তী স্থানে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানোর জঘন্য সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করতে হবে। কারণ পশুর হাট সরানো হলে কিংবা কোন হাট বন্ধ করে দিলে জনদুর্ভোগ আরো বহুগুণে বাড়বে। মানুষকে দূরদূরান্ত থেকে পশু কিনে আনতে হলে ক্রেতাদের, পথচারীদের ও গাড়ি চলাচলে বিঘœ ঘটবে।
    ৩। পশু যবাইয়ের স্থান নির্দ্দিষ্ট করা যাবে না, প্রত্যেককে তার সুবিধাজনক স্থানে পশু পবিত্র কুরবানী করতে দিতে হবে।
    ৪। পবিত্র কুরবানী বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
    ৫। পবিত্র কুরবানীর হাটের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব-পুলিশসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বেচ্ছাসেবী নিযুক্ত করতে হবে।
    ৬। পবিত্র ঈদের নামায আদায়ের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মহল্লায় মহল্লায় বড় ঈদগাহ মাঠের সুব্যবস্থা করতে হবে।
    ৭। পবিত্র কুরবানীর হাটে, খড়-ভুসি, কুড়া, ঘাস ও লতাপাতার পর্যাপ্ত যোগান দিতে হবে।
    ৮। সর্বাধিক পরিমাণ কুরবানীর পশুর যোগান দিতে হবে।
    ৯। যানজট হ্রাস ও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ঈদের ছুটি কমপক্ষে ১০ দিন করতে হবে।
    ১০। অসচ্ছল মুসলমানদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে যেন তারা পশু পবিত্র কুরবানী করতে পারে ।

    More
  • 9. কুরবানী শব্দের অর্থ এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
     

    ‘কুরবানী’ শব্দটি قُرْبَانٌ ‘কুরবান’ শব্দ হতে উদ্ভূত যার শাব্দিক অর্থ নৈকট্য। যা শব্দমূল قُرْب ‘র্কুব’ শব্দ থেকে উদ্গত। নিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য লাভ করা, বিলীন হওয়া, উৎসর্গ করা অর্থে قُرْبَانٌ ‘কুরবান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

    পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ قُرْبَانٌ ‘কুরবান’ শব্দটি মোট তিন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-
    সূরা আলে ইমরান শরীফ : ১৮৩ নং আয়াত শরীফ,
    সূরা মায়িদা শরীফ : ২৭ নং আয়াত শরীফ এবং
    সূরা আহক্বাফ শরীফ : ২৮ নং আয়াত শরীফ।

    অনুরূপভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ কুরবানী অর্থে اُضْحِيَّةٌ ‘উদ্বহিয়্যাহ’ এবং ضَحِيَّةٌ ‘দ্বাহিয়্যাহ’ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
    اُضْحِيَّةٌ ‘উদ্বহিয়্যাহ’ কুরবানীর দিনসমূহে মহান আল্লাহ পাক-উনার সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে যবেহযোগ্য উট, গরু, ছাগল বা ভেড়াকে বলা হয়।
    এ শব্দটি ضُحٰي ‘দ্বুহা’ শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ ‘পূর্বাহ্ন’। যেহেতু কুরবানী যবেহ করার উত্তম সময় হলো ১০ই যিলহজ্জ শরীফ বা কুরবানী ঈদের দিনের পূর্বাহ্নকাল। তাই ঐ সামঞ্জস্যের জন্য ‘উদ্বহিয়্যাহ’ বলা হয়েছে।

    এটিকে আবার ضَحِيَّةٌ ‘দ্বাহিয়্যাহ’ বা اَضْحٰي ‘আদ্বহা’ও বলা হয়। আর ‘আদ্বহাহ’ এর বহুবচন হলো ‘আদ্বহা’, যার সাথে সম্পর্ক জুড়ে ঈদের নাম হয়েছে عِيْدُ الْاَضْحٰي ‘ঈদুল আদ্বহা’।

    সম্মানিত ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক-উনার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক-উনার নামে নির্দিষ্ট তারিখে অর্থাৎ যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন দিনে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট প্রাণী অর্থাৎ দুম্বা, মেষ, ভেড়া, খাসী, ছাগল, উট, গরু, মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত হালাল চতুষ্পদ প্রাণীসমূহকে মহান আল্লাহ পাক-উনার পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করে যবেহ করাকে কুরবানী বলে।

    মূলত কুরবানী হচ্ছে আবুল মুসলিমীন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নত। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
    عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ.
    অর্থ : “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে বললেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নত।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

    কুরবানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিল করা। মহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়াই কুরবানীর একমাত্র উদ্দেশ্য।

    মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
    قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَـحْيَايَ وَمَـمَاتِي لِلّٰهِ رَ‌بِّ الْعَالَمِيْنَ ◌
    অর্থ : “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার হায়াত মুবারক ও আমার বিছাল শরীফ সবই খালিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক-উনার জন্যে যিনি সমস্ত আলমের রব তা’য়ালা।” (সূরা আনআম শরীফ : আয়াত শরীফ ১৬২)

    পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُـحُوْمُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلٰـكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْ ۚ
    অর্থ : “মহান আল্লাহ তায়ালা-উনার দরবার শরীফ-এ কুরবানীকৃত পশুর গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছেনা। বরং শুধুমাত্র তোমাদের তাক্বওয়া উনার দরবার শরীফ-এ পৌঁছে থাকে।” (সূরা হজ্জ শরীফ : আয়াত শরীফ ৩৭)

    উক্ত আয়াত শরীফ-এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পশুর কোন কিছুই গ্রহণ করেন না। উনারা দেখেন, কে উনাদের সন্তুষ্টির জন্য উনাদের নির্দেশ মুতাবিক কুরবানী করলো। আর কে গাইরুল্লাহ’র জন্য নিজের খেয়াল-খুশী মতো কুরবানী করলো। আর যখন কেউ মহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী কুরবানী করল তিনি হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে যে সালাম বর্ষিত হয়েছে তার হিস্যা লাভ করবে।

    মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
    سَلَامٌ عَلٰى إِبْرَ‌اهِيمَ ◌ كَذٰلِكَ نَـجْزِي الْمُحْسِنِينَ ◌
    অর্থ : “হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! আমি নেককারদেরকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।” (সূরা আছ-ছফফাত শরীফ : আয়াত শরীফ ১০৯-১১০)
    মূলত কিয়ামত পর্যন্ত যারাই উক্ত নিয়মে কুরবানী করবে তারা সবাই সেই সালাম মুবারক-এর হিস্যা লাভ করবে।

    আরো একটি বিষয় স্মরণীয় যে, কুরবানী নিছক গোশত খাওয়ার জন্য নয় বরং প্রাণ প্রতিম সন্তানের বিনিময়। যদি হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম হাক্বীক্বীভাবে প্রকৃতপক্ষে যবেহ হতেন তাহলে আমাদেরকেও আমাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদেরকে কুরবানী দিতে হতো। সুতরাং মহান আল্লাহ পাকর এবং উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়ার লক্ষ্যেই কুরবানী করা উচিত। কোন প্রকার বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয় কিংবা কোন বড়ত্ব/কৃতিত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে নয় বরং নিজের আমিত্ব/বড়ত্ব বিসর্জন দেয়ার নামই কুরবানী।

    More
  • 10. কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার একটি খাছ শিয়ার বা নিদর্শন
     

    কুরবানী উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কেউ মুসলমান থাকতে পারবে না।কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা কমানো, কুরবানীর পশু সম্পর্কে অপপ্রচার, জবাইকারীর বয়স ১৮ করা, জবাইয়ের স্থান নির্দিষ্ট করা - এর প্রত্যেকটিই কুরবানী উনাকে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ! কুরবানী উনাকে ইহানত করার সাথে জড়িত সরকারি বা বেসরকারি আমলা প্রত্যেককেই খালিছ তওবা করে ফিরে আসতে হবে; অন্যথায় কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

    ***************************************************************************

    পৃথিবীর সর্বপ্রথম কুরবানী:

    কুরবানীর ইতিহাস খুবই প্রাচীন।আদি পিতা হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যুগ থেকেই কুরবানীর বিধান চলে আসছে। হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই ছেলে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ও কাবীলের কুরবানী পেশ করার কথা আমরা আল-কুরআন উল কারীম থেকে জানতে পারি।

    মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা বলেন,
    ﴿ ۞وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ ٱبۡنَيۡ ءَادَمَ بِٱلۡحَقِّ إِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانٗا فَتُقُبِّلَ مِنۡ أَحَدِهِمَا وَلَمۡ يُتَقَبَّلۡ مِنَ ٱلۡأٓخَرِ قَالَ لَأَقۡتُلَنَّكَۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ ٢٧ ﴾ [المائ‍دة: ٢٧
    অর্থাৎ, হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই পুত্রের (হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম ও কাবিলের) বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দিন, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, ‘আমি আপনাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো সংযমীদের কুরবানীই কবূল করে থাকেন।[সূরা মায়িদা (৫):২৭]।

    ইন্দিরা গান্ধীকে ভারতের শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রীদের একজন ধরা হয়। কিন্তু এই ইন্ধিরা গান্ধীকেও আরেক যালিম শাসক গৌরগোবিন্দের মতো করুণ পরিণতি বরণ হয়। কারণ একটিই। ভারতে মুসলমানদের জন্য গরু কুরবানীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাত্র কিছুদিনের মাথায় মহান আল্লাহ পাক উনার গযবের বহিঃপ্রকাশ হয়। তার নিজ দেহরক্ষীর হাতেই নির্মম পতন হয় তার।

    লেখার শুরুতেই ইতিহাসের এ পাতাটি টেনে আনার কারণ আছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি খুবই প্রাসঙ্গিক। কারণ বিগত কয়েক বছর ধরেই কুরবানীর বিপক্ষে একটি মহলের আটঘাট বেঁধে অপপ্রচার সবার নজরে এসেছে। এমনকি তাদের এই হাত এখন দেশের ক্ষমতাসীন সরকার তথা প্রশাসনকেও নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছে। তারা প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কুরবানীকে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে।

    কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা কমানো:

    দেশের জনসংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে, নাকি কমছে? যদি বাড়ে, তবে তো কুরবানীদাতারও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাহলে কুরবানীর পশুর চাহিদাও বাড়ছে। একই সাথে কুরবানীর পশুর খামারও বেড়েছে। অর্থাৎ কুরবানীর পশুর উৎপাদন ও সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে এর সাথে সাথে কি কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা বাড়বে, নাকি কমবে? বাড়বে। তবে যারা হাটের সংখ্যা কমানোর কথা বলছে তারা কারা? মূলত, এরাই হলো কুরবানীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী গোষ্ঠী। এরাই ইহানতকারী।

    পশুর হাটগুলোকে শহরের বাইরে নেয়া:

    সারা বছর শহরের রাস্তা দখল করে মিটিং, মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ মঞ্চ ইত্যাদি হচ্ছে। শোভাযাত্রা, রথযাত্রা, বৈশাখী মেলাসহ বছরজুড়ে আরো কত ‘মেলা’ আর কত ‘খেলা’। এগুলোর একটিও কি শহরের বাইরে করা যায় না? যায় না, কারণ এগুলোর সাথে ইসলাম নেই। কিন্তু বছরের মাত্র কয়েকদিনের এই কুরবানীর পশুর হাটের সাথে তো ইসলাম আছে, মুসলমানিত্ব চেতনা আছে; তাই তো সবার আগে এটাকেই শহর থেকে বের করে দিতে হবে। এটাই সেই সব হিংসুটেদের অন্তরের কথা। নাউযুবিল্লাহ!

    জবাইয়ের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করা:

    পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে, হাটগুলোকে শহরের বাইরে নিয়েও তাদের অন্তরের জ্বালা মিটেনি। তারা কুরবানীদাতা মুসলমানদেরকে আরো কষ্ট দিতে চায়। যেভাবে উৎসাহ উদ্দীপনা আর আনন্দের সাথে মুসলমানরা কুরবানীর পশু জবাই করে ও তার গোশতগুলো বণ্টন করে সে আনন্দের বাতিটিও তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে নিভিয়ে দিতে চায়। সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট মাঠে কখনোই যে এই লক্ষ লক্ষ গরু-ছাগল কুরবানীর যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়, তা কিন্তু তাদের (!) খুব ভালো করেই জানা। শুধু জানা নেই অটিস্টিক (প্রতিবন্ধী) প্রশাসন যন্ত্রের। একটি মাঠে কতগুলো গরু একসাথে জবাই করা যাবে, সেগুলো প্রসেসিং করতে কত সময় লাগবে, ১ম দফার পর কর্দমাক্ত মাঠে কিভাবে ২য় দফায় জবাই হবে এবং এভাবে সমস্ত কুরবানীর পশুগুলোকে নির্দিষ্ট ৩ দিনের মধ্যে জবাই করা সম্ভব কিনা- এসব হিসাব অটিস্টিক প্রশাসনের জানা না থাকলেও জনগণের জানা আছে। তাই তো গতবারও তাদের এই হীনউদ্দেশ্য সফল হয়নি, এবারও হবে না। ইনশাআল্লাহ!

    জবাইকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ করা:

    কে কোন্ বয়সে বিয়ে করবে, কোন্ বয়স থেকে জবাই করবে ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়েই এখন সিদ্ধান্ত দেয়া শুরু করেছে সরকারি প্রশাসন। ভাবখানা এমন- যেন তাদের উপর ওহী নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নচেৎ বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে, জবাইকারীর বয়সের ক্ষেত্রে যেখানে ইসলামী শরীয়ত নির্দিষ্টতা আনেনি, সেখানে সরকার কি করে হাত দেয়? এটা কি বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মতো নয়? অথচ সরকার তো বিয়েপূর্ব কথিত প্রেম-ভালোবাসা, পরকীয়া, অবৈধ মেলামেশা; টিভি-সিনেমা, ইন্টারনেটে অশ্লীলতা দেখা ইত্যাদিতে কোনো বয়স নির্দিষ্ট করেনি। এর অর্থ হলো- যেকোনো বয়স থেকেই যা খুশি সব অপকর্ম করা যাবে, তবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যে অজুহাতেই জবাইকারীর বয়স নির্দিষ্ট করা হোক না কেন- এটা স্পষ্টতই পবিত্র কুরবানী উনাকে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শামিল।

    কুরবানীর পশু সম্পর্কে অপ্রচার:

    বর্ষা এলেই ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ আওয়াজ শুনা যায়। তেমনিভাবে কুরবানী এলেই কিছু গরু-ছাগলপ্রেমীদের দেখা যায়। কুরবানী এলেই ব্যাঙের মতো তারা ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ আওয়াজ তোলে- গরুতে বিষ আছে, গরুতে এনথ্রাক্স আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব মৌসুমী পশুপ্রেমী ব্যাঙগুলো পশু বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তার না হলেও নিজেদেরকে এর চেয়ে বড় মনে করে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা কুরবানীর গরু-ছাগল নিয়ে এসব অপপ্রচারে কান না দিতে বললেও তারা(!) কিন্তু ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করেই যাচ্ছে। মূলত, কুরবানীর প্রতি তীব্র ও প্রচ-তম বিদ্বেষ থেকেই তাদের এই মৌসুমী পশুপ্রেমের সৃষ্টি।
    পাঠক! আমাদের এই বাংলাদেশ, এখানে প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলমান। অথচ সরকারি প্রশাসন একের পর এক এমন সব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ও ঘোষণা দিচ্ছে, যেগুলোর প্রত্যেকটিরই উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরবানী উনাকে নিয়ন্ত্রণ করা, সীমিত করা। যা প্রকাশ্যে কুরবানী উনাকে ইহানত বা তাচ্ছিল্য করার শামিল। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এই লেখাতে আলোচ্য ৫টি পয়েন্টের কোনো একটিকেও কি কেউ কোনোভাবে কুরবানীবান্ধব তথা কুরবানীতে উৎসাহিত হওয়ার মতো সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণ করতে পারবেন? পারবেন না। ইনশাআল্লাহ! চ্যালেঞ্জ রইলো।

    সবশেষে বলতে হয়- পবিত্র কুরবানী হলো যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনারই একটি খাছ (বিশেষ) শিয়ার বা নিদর্শন মুবারক। শুধু এতটুকুই নয়, এমনকি যারা কুরবানী উনাকে কোনোভাবে এড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট বলা হয়েছে- “যারা সামর্থ্যবান হওয়ার পরও কুরবানী করবে না, তারা যেন আমাদের ঈদগাহেও না আসে।”

    তাহলে যারা প্রকাশ্যে পবিত্র কুরবানী নিয়ে মনগড়া আইন-কানুন চালু করতে চায়, তারা কতবড় নাফরমান, এট বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সময় থাকতেই এসব অপসিদ্ধান্ত থেকে খালিছ তওবা করে কুরবানী উনাকে কিভাবে আরো ব্যাপকভাবে ও উৎসাহের সাথে করা যায় তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া সরকারের জন্য ফরয। যালিম ইন্দিরা গান্ধী, গৌরগোবিন্দরা ইতিহাসই থাকুক।

    More
  • 11. দালাল মিডিয়ার ঢালাও অপপ্রচার: ‘স্টেরয়েড বড়ি-ইনজেকশনের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করে মানুষকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে’
     

    ‘স্টেরয়েড বড়ি-ইনজেকশনের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করে মানুষকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে’- এটা দালাল মিডিয়ার ঢালাও অপপ্রচার মাত্র। স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি-ইনজেকশন দিয়ে নয়, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজা করা হয়।
    ***************************************************************************
    কাফির মুশরিকগুলোর সাথে উলামায়ে সু গুলি মিলে একাকার হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ।

    হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে যে,
    ستفترق امتى على ثلاث وسبعين فرقة كلهم فى النار الا ملة واحدة قيل من هى يارسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما انا عليه واصحابى.
    অর্থঃ- “অতি শীঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত সকল দল জাহান্নামে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো- যে দলটি (নাযাত পাবে) সেটা কোন দল? ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে (মত-পথের) উপর আমি আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমগণ রয়েছি, তার উপর যারা থাকবে, তারাই সেই নাযাত প্রাপ্ত দল।” ( আবু দাউদ, মেশকাত, মেরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ্, মোযাহেরে হক্ব)

    কুরবানীর ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইনজেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজা করা যায়।

    বাসস্থানের গঠন:

    গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। একটি মাঝারি আকারের গরুর জন্য ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য, ৩-৪ ফুট প্রস্থ ও ঘরের উচ্চতা ৮-১০ ফুট হওয়া দরকার। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর উপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে উপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।

    খাদ্য ব্যবস্থাপনা:

    জীবন ধারনের জন্য খাদ্য অত্যাবশ্যক। গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিচে দেয়া হলো-
    শুকনা খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং ২-এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে (পানি : চিটাগুড়=২০:১) ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে।
    কাঁচা ঘাস: প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, জার্মান, পারা, খেসারি, দেশজ মাসকলাই, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

    দানাদার খাদ্য: প্রতিটি গরুকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকার একটি নমুনা দেয়া হলো-

    উপাদান - দানাদার খাদ্য মিশ্রণের পরিমাণ - শতকরা হার
    * গম ভাঙা-গমের ভুসি - ৪০০ গ্রাম - ৪০%
    * চালের কুড়া - ২০০ গ্রাম - ২০%
    * তিলের খৈল - ১৫০ গ্রাম - ১৫%
    * খেসারি বা ছোলা অথবা যেকোনো ডালের ভুসি - ১৫০ গ্রাম - ১৫%
    * হাঁড়ের গুঁড়া/ঝিনুক গুঁড়া - ৫০ গ্রাম - ৫%
    * লবণ - ৫০ গ্রাম - ৫%।
    মোট= ১০০০ গ্রাম = ১ কেজি - ১০০%।

    উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ (যেমন- Ranmix Total®), এন্টিবায়োটিক (যেমন-
    Oxysentin® ২০% @ ১গ্রাম/কেজি) ও বাজারে প্রচলিত খাবার সোডা, ১% হারে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

    গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে-
    (১)। আঁশ বা ছোবড়া জাতীয় জাতীয়-খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে
    (২)। দানাদার জাতীয়-খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং
    (৩)। ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকের মাধ্যমে।

    More
  • 12. গরু কুরবানীর বিরোধিতাকারী চক্রের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে- তারা গৌরগোবিন্দের উত্তরসূরি নয়?
     

    لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
    অর্থ: নিশ্চয়ই মুসলমানগণ উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন প্রথমত, ইহুদিদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

    গরু কুরবানীর বিরোধিতাকারী গৌরগোবিন্দের ইতিহাস কি দেশের সরকারি কর্মকতারা ভুলে গেছে? তাদের কি মনে নেই- কিভাবে গরু কুরবানীর বিরোধিতা করতে গিয়ে হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট অপদস্ত ও নাস্তানাবুদ হয়েছিলো যালিম হিন্দু গৌরগোবিন্দ?
    সেই গৌরগোবিন্দের চেলা-চামুন্ডাদের পবিত্র কুরবানী বন্ধের অপতৎপরতা আবারো দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে। তারা আবারো এদেশে গরু কুরবানী বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। বিভিন্ন অজুহাত ও অপপ্রচার চালিয়ে তারা গরু কুরবানী বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। যেমন-

    ১) তারা নির্দিষ্ট স্থানে শহরের সব পশু একত্র করে যন্ত্রের সাহায্যে যবাই ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কুরবানীর কাজ সমাধান করবে। নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

    ২) ২০১৪ সালে দুই সিটি করপোরেশনে অস্থায়ী পশুর হাট ছিল ২২টি। সেখানে দুই সিটি কর্পোরেশনে ২০১৫ সালে অস্থায়ী পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে ১৬টি করা হয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! যাতে মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী উনার গরু বেচা-কেনা কম হয়, পশুর সঙ্কট দেখা যায় এবং উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ দুর্বল পশু কুরবানী দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

    ৩) পবিত্র কুরবানীর মোটাতাজা গরুর ভেতর বিষ রয়েছে-এমন অপপ্রচারণা ছড়ানো হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

    এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী ভাগ মুসলমান উনাদের চোখের সামনে প্রকাশ্যে এমন একটি ভয়াবহ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র দেখেও সরকারের নীরবতা খুবই দুঃখজনক। তবে যারা ক্ষমতায় আছে তারা কি গৌরগোবিন্দের বংশধর? যদি এটা না হয়, তবে সরকারের প্রতি আহবান- অতিশীঘ্রই এসব গরু কুরবানীর বিরোধীদেরকে খুঁজে বের করে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তাদের আজীবনের জন্য পবিত্র কুরবানীর বিরুদ্ধে বলার মতো জবান বন্ধ হয়ে যায়

    More
  • 13. আপনি কি জানেন কোন রাতের ইবাদত লাইলাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতূল্য?
     

    পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
    عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ اَنْ يَّتَعَبُّدَ لَهُ فِيْهَا مِنْ عَشْرِ ذِى الْـحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَ قِيَامُ كُلّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ.
    অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যে দিন সমূহের ইবাদত মহান আল্লাহ পাকের নিকট যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয় বা পছন্দনীয়। যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি দিনের রোযার ফযীলত হচ্ছে ১ বছর রোযা রাখার সমপরিমাণ এবং প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমপরিমাণ।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

    সুতরাং যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমতুল্য।

    More
  • 14. মুসলমানদেরকে সুষ্ঠুভাবে কুরবানী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেওয়া সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য, পবিত্র কুরবানী বিরোধী আইন বাতিল করতে হবে
     

    ৯৮ ভাগ মুসমানদের দেশ বাংলাদেশ, এদেশের মুসলমানদের অন্যতম ঐতিহ্য হচ্ছে
    পবিত্র কুরবানী, পবিত্র ইসলাম ধর্মের নির্দেশ মুতাবিক এদেশের মুসলমানরা কুরবানী করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কতিপয় ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু,নাস্তিক,মুনাফিকদের ইন্ধনে সরকার কিছূ কিছু আইন করেছে,
    যেমন:- ১৮ বছরের নিচে কেউ কুরবানীর পশু জবাই করতে পারবে না,
    নিদিষ্ট স্থানে কুরবানী করতে হবে,যত্র যত্র কুরবানীর হাট বসানো যাবে না,
    মেশিনের দ্বারা কুরবারীর পশু জবাই করতে হবে ইত্যাদি আইন করেছে।

    যেই আইনগুলি যেমন ইসলামসম্মত তো নয়ই বরং ইসলাম বিরোধী ও জনদূর্ভোগেরও কারণ। মুসলমানদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় ধর্ম ইসলাম বিরোধী আইন ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি মূলক আইন এদশের মুসলমানরা কখনও মেনে নিবে না।
    একদিকে এই সমস্ত আইন নিয়ে সরকার কড়াকড়ি করতেছে অপরদিকে গণমানুষ কেউ এই আইন মানবে না।যার ফলে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি সরকার বিরোধী আন্দোলনও সৃষ্টি হতে পারে।
    তাই সরকারের জন্য উচিৎ হবে মুসলমানদেরকে সুষ্টুভাবে কুরবানী করতে দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেওয়া,কুরবানীর জন্য বাজেট বরাদ্দ করা, হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা,পশুর সহজলভ্য করা,কুরবানীর ঈদে কমপক্ষে ১০ দিন ছুটি দেওয়া েইত্যাদি।
    পাশাপাশি মুসলমানদের কুরবানী নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করতেছে তাদেরকে দমন করে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    More
  • 15. গরু কুরবানীর বিরোধিতাকারী চক্রের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে- তারা গৌরগোবিন্দের উত্তরসূরি নয়?
     

    لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
    অর্থ: নিশ্চয়ই মুসলমানগণ উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন প্রথমত, ইহুদিদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

    গরু কুরবানীর বিরোধিতাকারী গৌরগোবিন্দের ইতিহাস কি দেশের সরকারি কর্মকতারা ভুলে গেছে? তাদের কি মনে নেই- কিভাবে গরু কুরবানীর বিরোধিতা করতে গিয়ে হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট অপদস্ত ও নাস্তানাবুদ হয়েছিলো যালিম হিন্দু গৌরগোবিন্দ?
    সেই গৌরগোবিন্দের চেলা-চামুন্ডাদের পবিত্র কুরবানী বন্ধের অপতৎপরতা আবারো দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছে। তারা আবারো এদেশে গরু কুরবানী বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। বিভিন্ন অজুহাত ও অপপ্রচার চালিয়ে তারা গরু কুরবানী বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। যেমন-

    ১) তারা নির্দিষ্ট স্থানে শহরের সব পশু একত্র করে যন্ত্রের সাহায্যে যবাই ও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কুরবানীর কাজ সমাধান করবে। নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

    ২) ২০১৪ সালে দুই সিটি করপোরেশনে অস্থায়ী পশুর হাট ছিল ২২টি। সেখানে দুই সিটি কর্পোরেশনে ২০১৫ সালে অস্থায়ী পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে ১৬টি করা হয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! যাতে মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী উনার গরু বেচা-কেনা কম হয়, পশুর সঙ্কট দেখা যায় এবং উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ দুর্বল পশু কুরবানী দেয়। নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

    ৩) পবিত্র কুরবানীর মোটাতাজা গরুর ভেতর বিষ রয়েছে-এমন অপপ্রচারণা ছড়ানো হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

    এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী ভাগ মুসলমান উনাদের চোখের সামনে প্রকাশ্যে এমন একটি ভয়াবহ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র দেখেও সরকারের নীরবতা খুবই দুঃখজনক। তবে যারা ক্ষমতায় আছে তারা কি গৌরগোবিন্দের বংশধর? যদি এটা না হয়, তবে সরকারের প্রতি আহবান- অতিশীঘ্রই এসব গরু কুরবানীর বিরোধীদেরকে খুঁজে বের করে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তাদের আজীবনের জন্য পবিত্র কুরবানীর বিরুদ্ধে বলার মতো জবান বন্ধ হয়ে যায়

    More
  • 16. কুরবানীর পশুর হাট দুরে সরিয়ে দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা প্রদান করা হচ্ছে
     

    এবার কুরবানী উনার হাটের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস করা হয়েছে, হাটগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায়। কিন্তু এত কম সংখ্যক হাট থেকে কুরবানী উনার পশু ক্রয় করা কখনোই ঢাকাবাসীর পক্ষে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি দর্শনে এটা অনস্বীকার্য, এবার ইচ্ছাকৃত হাটের সংখ্যা হ্রাস ও হাটগুলো দূরে ঠেলে মুসলমান উনাদের কুরবানীতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। ৯৮% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে কুরবানী উনার পশুর হাট নিয়ে এ জঘন্য চক্রান্ত কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

    More
  • 17. ৯৮% মুসলমানের সামর্থ্যহীন গরিবদের পবিত্র কুরবানী করতে অর্থ সাহায্য কোথায়?
     

    ১.৫% হিন্দু যাতে ঘটা করে দুর্গাপূজা পালন করতে পারে সেজন্য ধনী-গরিব প্রত্যেক হিন্দুকে মুসলমানের খাজাঞ্চীখানা থেকে পর্যাপ্ত সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে(!), যা দিয়ে নুন আনতে পানতা ফুরানো হিন্দুরা পর্যন্ত ৩-৪টা করে পূজাম-প তৈরি করে এদেশে হিন্দুত্বের জয়গান করছে! নাঊযুবিল্লাহ!

    কথা হলো, এদেশে পবিত্র কুরবানী দিতে সামর্থ্য রাখে না কিংবা তিন বেলা পেট পুরে খাবার পায় না, এমন হত দরিদ্র মুসলমানের সংখ্যা প্রচুর। এ নিরন্ন, সামর্থ্যহীন গরিব মুসলমানগণ যাতে তাদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র কুরবানীতে অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য কোনো সরকারি অনুদান দেয়া হয়েছে কী? পবিত্র ঈদ উনার দিন যারা খোলা আকাশের নিচে রাত্রী যাপন করবে, যাদের চুলা জ্বলবে না, যাদের হাড়ি উনুনে চড়বে না কিংবা যাদের হাড়ি আর চাল-চুলোই নেই- সরকারের পক্ষে তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে কি? তবে কী ধরে নেয়া যায়, এ সরকার শুধু ওই ১.৫ শতাংশ হিন্দুর ধর্মীয় অধিকার রক্ষার জন্যই ক্ষমতায় এসেছে!

    More
  • 18. পবিত্র কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদেরকে রুখে দেয়া হোক
     

    যারা পবিত্র কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্র করে থাকে তাদের থেকে সাবধান। কেননা তারা মুসলমানদের চরম শত্রু। যারা পবিত্র কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্র করে থাকে তারাই মূলত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী। ৯৮ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে কি করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে, পবিত্র কুরবানীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে? কোনো ঈমানদার মুসলমান তা বরদাশত করতে পারে না। ষড়যন্ত্রকারীরা মুসলমানদের কষ্ট দিতে রাজধানীর মধ্যে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট কমিয়ে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ইতিহাসে দেখা যায় পবিত্র কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলো চরম ইসলামবিদ্বেষী কাট্টা মুশরিক চির জাহান্নামী গৌরগোবিন্দ।

    এছাড়াও পথভ্রষ্ট গুমরা শাসক বাদশাহ আকবর হিন্দুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পবিত্র কুরবানী নিয়ে কঠোরতা জারি করেছিলো। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও দেখা যাচ্ছে, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশের শাসকগোষ্ঠী হিন্দু মুশরিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পবিত্র কুরবানী নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে। সুতরাং সরকারকে মনে রাখতে হবে, গৌর গোবিন্দ ও বাদশাহ আকবর কেউই কিন্তু তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। কেননা মুসলমানরা তাদের চাপিয়ে দেয়া ষড়যন্ত্র বরদাশত করেনি। এখনো যদি সরকার পবিত্র কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চায়, এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমান উনারা তা বরদাশত করবে না। তাই আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মুসলমানদের সমস্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে, ইসলামবিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

    More
  • 19. কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি কি?
     

    কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবে না। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
    (আহমদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী, দারিমী ইবনে মাযাহ, মিশকাত শরীফ)

    More
  • 20. কুরবানি বিরোধী ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ করুন
     

    যিনি খলিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহপাক তিনি ইরশাদ মুবারাক করেন-
    " আমার নিদর্শন সমূহ কে তোমরা অবমাননা করোনা।"

    যেখানে মহান আল্লাহপাক উনার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেখানে কুরবানি বিরোধী ষড়যন্ত্র করা কি একটি মুসলিম দেশের সরকার এর সাঁজে?
    দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজের একটি অংশ গরু কুরবানির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত বিবিধ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। প্রথমত, তারা পশু প্রেমের কথা বলছে, অথচ তারা গরুর সৃষ্টিকর্তাও নন আবার রক্ষাকর্তাও নন।

    তাদের এ প্রচারণা প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় তারা কুরবানির টাকা বন্যা দুর্গতদের দান করতে বলল। কিন্তু তারা পুজা কিংবা হারাম খেলাধুলা, কনসার্ট বন্ধ করে তার টাকা দুঃস্থদের দান করতে বলেনি।

    তাদের এ প্রতারণাও মুসলমান ধরে ফেললে তারা এবার অ্যানথ্রাক্স রোগের মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে পবিত্র কুরবানি কে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু এই রোগের আক্রান্ত গরুকে যে হাটেই আনা সম্ভব নয়, সে সত্যও প্রকাশের পর এখন আবার তারা গরু কুরবানির হাট কমিয়ে আনার পিছনে যানজট ও হাসপাতালের রোগীর কষ্টের অজুহাত নিয়ে হাজির হয়েছে। অথচ কোনদিন তো তাদের মুখে পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট নামক হুজ্জুতি বন্ধের কথা শুনিনি।

    এসব অনুষ্ঠানে যারা মাতামাতি করে তারা সংখ্যায় অনেক কম এবং তারা প্রকাশে নারীর সম্ভ্রমে হাত দিতে অ কুণ্ঠাবোধ করে না। যদি যানজট কমানোয় উদ্দেশ্য হয় তবে সরকার তো পবিত্র ঈদ এর ছুটি দশ দিন করে দিলে যানজটের কোন সমস্যাই থাকেনা। কারন ঢাকার বাইরের লোকজন ছুতি পেয়ে আগেই বাড়ি ফিরতে পারবে এবং নিজ এলাকায় শান্তিতে পশু কিনতে পারবে, অপরপক্ষে ঢাকার মানুষও ঢাকা-ফাকা হওয়ার পর শান্তিতে পশু কিনতে পারবে। কিন্তু তাতে তো খুব সমস্যা, এতওওও দিন কিভাবে সরকার ছুটি দিবে? অথচ, পহেলা মে, পহেলা বৈশাখ, ইত্যাদি ফালতু ছুটি যার সাথে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন সম্পর্কই নেই।

    তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ, চাকুরীজীবীদের ছুটি বারিয়ে দশদিন করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি বাড়িয়ে দেয়া, কুরবানি বিরোধী সবধরনের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং মুসলমানদেরকে কুরবানির জন্য সবধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা।

    More
  • 21. কুরবানি বিরোধী ষড়যন্ত্রঃ শুধুমাত্র কুরবানির সময়ই কেন এনথ্রাক্স নিয়ে প্রচারণা করে দালাল মিডিয়া?
     

    কুরবানি আসলেই এনথ্রাক্সের দেখা মেলে। অন্যসময় তার হদিশই পাওয়া যায় না। এনথ্রাক্স কি তাহলে কুরবানির জন্য স্পেশাল?

    না, অন্যসময়ও এনথ্রাক্স থাকে তবে তখন তাকে ডাকা হয় "গরুর তড়কা রোগ" নামে; যা কোন নতুন রোগ না। রোগটা এতই পুরাতন যে, গবাদি পশুপালনকারী মাত্রই এর সম্মন্ধে জানে। সিরাজগঞ্জ জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, "আক্রান্ত গরু ঢাকায় আসার কোনো আশঙ্কা নেই। রওনা দিলেও মৃত্যুবরণ করবে, কারণ আক্রান্ত হওয়ার তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে গবাদিপশু মারা যায়। গরুর দুধ খেয়েও অ্যানথ্রাক্স হওয়ার আশঙকা নেই।" আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাংস যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ তাপ যেন মাংসের ভেতরে ভালো করে ঢোকে। সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার পরও একই তাপমাত্রায় মাংস চুলার ওপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। যদিও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অত্যন্ত শক্তিশালী; কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় যেকোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়।"

    সুতরাং এনথ্রাক্সের ভয় দেখিয়ে যারা লোকজনকে গরু কুরবানি করতে নিরুৎসাহিত করছে তারা হয় ভারতের দালাল অথবা নিরেট মূর্খ!

    More
  • 22. সরকারের নিকট আমার ১০ টি চাওয়ার দাবী
     

    এক.- ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডসহ সারা দেশের মহল্লায় মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানোর ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে মুসলমানরা সহজে, স্বল্প খরচে চাহিদা অনুযায়ী পবিত্র কুরবানীর পশু সংগ্রহ করতে পারে।

    দুই:- ঢাকাশহর থেকে দূরবর্তী স্হানে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানোর জঘন্য সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করতে হবে। যা মুসলমানদের কষ্টের কারণ হবে।

    তিন:- পশু যবাইয়ের স্হান নির্দ্দিষ্ট করা যাবে না,প্রত্যেককে তার সুবিধাজনক স্হানে পশু পবিত্র কুরবানী করতে দিতে হবে।

    চার:- পবিত্র কুরবানীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    পাঁচ :- পবিত্র কুরবানীর হাটের আইন- শৃঙ্খলা রক্ষায় রাব- পুলিশসহ পর্যাপ্ত পরমাণে স্বেচ্ছাসেবী নিযুক্ত করতে হবে।

    ছয় :- পবিত্র ঈদের নামায আদায়ের জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মহল্লায় মহল্লায় বড় ঈদগাহ মাঠের সুব্যবস্হা করতে হবে।

    সাত :- পবিত্র কুরবানীর হাটে, খড়- ভূসি, কুড়া, ঘাড ও লতাপাতার পর্যান্ত যোগান দিতে হবে।

    আট :- সর্বাধীক পরিমাণ কুরবানীর পশুর যোগান দিতে হবে।

    নয় :- যানজট কমানো ও দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ঈদের ছুটি কমপক্ষে ১০ দিন করতে হবে।

    দশ :- অসচ্ছল মুসলমানদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে যেন তারা পশু পবিত্র কুরবানী করতে পারে।

    সরকার যদি এই ১০ টি দাবী মুসলমানদের জন্য মেনে নিয়ে, বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে কি পরিমাণ যে মুসলমানদের দোয়া পাবে তা কল্পণাতীত?

    More
  • 23. একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করতে হবে,গইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করলে সেটা কবুল হবে না
     

    একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করতে হবে,গইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করলে সেটা কবুল হবে না। কুরবানী করার সময় ছবি তুললে সেটা কবুল হবে না
    ***********************************************

    খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলুন আমার নামায, আমার কুরবানী আমার হায়াত মুবারক ও আমার মউত সবই মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য।” (পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬২)

    খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনি নামায আদায় করুন এবং পবিত্র কুরবানী করুন আপনার রব উনার জন্য।” (পবিত্র সূরা কাউছার শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)

    উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে যা বুঝাতে চেয়েছেন সেটা হলো- বান্দা এবং উম্মতের সর্ব প্রকার ইবাদত হতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে। নচেৎ বান্দা উম্মত যতই ইবাদত করুক না কেন, সেটা দ্বারা কখনো ফায়দা হাছিল করতে পারবে না।

    খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নামে পশু কুরবানী করে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)

    কাজেই এই পবিত্র কুরবানী অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য করতে হবে। কিন্তু আজ-কাল দেখা যায়, পবিত্র কুরবানী করতে গিয়ে অনেকেই লৌকিকতা বা লোক দেখানোর জন্য কুরবানী করে থাকে, যেমন কার চেয়ে কে বড় গরু দিয়ে পবিত্র কুরবানী দিবে? এবং সামর্থ্য না থাকার সত্ত্বেও ধার করে হলেও কুরবানী দেয় মান-সম্মান বিনষ্ট হবে এটা চিন্তা করে। নাউযুবিল্লাহ!

    এটা কিন্তু কোনো মুসলমানের উচিত হবে না। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কুরবানীকৃত পশুর গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছে না, বরং শুধুমাত্র তোমাদের তাক্বওয়া উনার কাছে পৌঁছায়।” মূলত, পবিত্র এই আয়াত শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, পবিত্র কুরবানীর পশু উনার কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। উনারা দেখেন কে উনাদের সন্তুষ্টির জন্য পবিত্র কুরবানী করলো আর কে গাইরুল্লাহর জন্য নিজের খেয়াল-খুশি মতো পবিত্র কুরবানী করলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বর্তমান যামানায় পবিত্র কুরবানী উনার পশু কেনা হয় প্রতিযোগিতা করে। যাতে তাদের সুনাম করে অমুক ব্যক্তি অনেক বড় গরু নিয়েছে অনেক টাকা দিয়ে। নাউযুবিল্লাহ!

    এছাড়া দেখা যায়, পবিত্র কুরবানীর পশু উনার ছবি তুলে এবং ভিডিও করে বিভিন্ন অনলাইনে প্রচার প্রসার করে থাকে। এগুলো কিন্তু সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে সম্পূর্ণ হারাম। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই যদি পবিত্র কুরবানী করা হয় সেটা অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখে থাকেন। এখানে গাইরুল্লাহর চিন্তা করা সম্পূর্ণ নাজায়িয। কাজেই সকল মুসলমান নর-নারীর জন্য উচিত খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া। কেননা এই পবিত্র কুরবানী উনার অনেক ফাযায়িল-ফযীলত রয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যে সমস্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা হবে। ক্বিয়ামতের দিন সেই পশুগুলো কুরবানীদাতাকে পিঠে করে বিদ্যুৎ বেগে পুলছিরাত পার করে বেহেশতে পৌঁছিয়ে দিবে। সুবহানাল্লাহ!

    এখন যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব তারা তো পবিত্র কুরবানী করে অফুরন্তু ফযীলত লাভ করবেন যদি সে ইখলাছের সহিত দিতে পারে। কিন্তু যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব নয়, তারাও ইচ্ছা করলে একাধিক ব্যক্তি মিলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাম মুবারকে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা মেষ ইত্যাদি কুরবানী দিয়ে পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত লাভ করতে পারে।

    মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে খালিছভাবে পবিত্র কুরবানী দেয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!

    More
  • 24. যিলহজ্জ্ব শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল,নখ,মোচ ইত্যাদি না কেটে সকলেই কুরবানী দেওয়া ফযিলত হাসিল করুন
     
    সকলেই উক্ত আমল করুন, কুরবানীর ফযিলত মুবারক হাসিল করুন।

    যারা কুরবানী দিবে ও যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় নাই উভয়য়ের উপরই এই হুকুম। যিলহজ্জ্ব শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল,নখ,মোচ ইত্যাদি না কাটলে সকলেই কুরবানী দেওয়া ফযিলত পাবে। সুবহানাল্লাহ!!

    পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর শরীরের কোনো অংশের চুল না কাটে, মাথার চুল না কাটে এবং নখ না কাটে। কুরবানী করার পর চুল, নখ ইত্যাদি কাটবে। যার কুরবানী করার সামর্থ্য নেই, তার জন্যেও এটা ফযিলতরে কারণ, সে কুরবানীর দিন কুরবানীর পরিবর্তে তার চুল কাটবে, নখ কাটবে এবং নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করবে। এ কাজ তার কুরবানীর ফযিলত হাসিল হবে।

    উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যার কুরবানী করতে হবে সে যেন চাঁদ দেখার পর যতক্ষণ না কুরবানী করেছে ততোক্ষণ চুল ও নখ না কাটে।(মুসলিম শরীফ, জামউল ফাওয়ায়েদ)

    হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, আমি যেন ঈদুল আযহার দিনে (যিলহজ্জে মাসের ১০ তারিখে) ঈদ পালন করি। মহান আল্লাহ পাক এ দিন উম্মতের জন্যে ঈদ নির্ধারিত করেছেন। একজন জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একজন আমাকে দুধ পানের জন্যে একটা বকরী দিয়েছেন। এখন ঐ বকরী কি আমি কুরবানী করব? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, না আপনি তা কুরবানী করবেন না। কিন্তু কুরবানীর দিন আপনার চুল ছাঁটবে, নখ কাটবেন, গোঁফ ছোট করবেন এবং নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করবেন। এতে করে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে কুরবানীর ফযিলত দান করবেন। (জামউল ফাওয়ায়েদ, আবু দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ )

    More
  • 25. ভারতে কুরবানী নিষিদ্ধ
     

    ভারতে কুরবানী নিষিদ্ধ, সমস্ত মুসলমানরা আন্দোলন শুরু করুন,এদেশে ১.৫% হিন্দুদের নাপাক পূজা নিষিদ্ধ করতে হবে ও হিন্দুদের এদেশ থেকে বের করে দিতে হবে
    ****************************************************


    মা’ল্ঊন,যালেম,সন্ত্রাসী ভারত সরকার কতৃক মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আযহায় মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী নিষিদ্ধ করেছে, নাউযুবিল্লাহ!!!
    মুসলমানগণ তাদের ধর্মীয় শেয়ার,অন্যতম ওয়াজিব আমল কুরবানি করতে পারবেনা!! নাউযুবিল্লাহ!!! এছাড়া গরু জবাই তো নিষেধ আছেই নাউযুবিল্লাহ!!

    খবরের সূত্র:
    আনন্দবাজার- http://goo.gl/C3bv8J
    চ্যানেল আই- http://goo.gl/lMe6hD
    ইত্তেফাক- http://goo.gl/bxo0Pg

    তাহলে ৯৮ ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশে কুফরী-শিরকী নাপাক পূজা কিভাবে চলতে পারে??
    বাংলাদেশে ১.৫% হিন্দুদের নাপাক পূজা নিষিদ্ধ করতে হবে।
    বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের বের করে ভারতে পাঠিয়ে দিতে হবে।
    ভারত ৫০ ভাগ মুসলমান থাকার পরও মুসলমানরা ধর্ম পালন করতে পারবে না, অথচ বাংলাদেশে ১.৫% হিন্দু রাজার হালতে থাকবে এটা হতে পারে না।

    More
  • 26. পবিত্র যিলহজ্জ মাস উনার ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত, মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব আর তিন বার পাঠ করা সুন্নত
     

    14183823_10154366408443820_2546198283099435974_n

    হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছিলেন,
    হে বারে ইলাহী! আমাকে একজন নেক সন্তান হাদিয়া করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালাম উনাকে একজন ধৈর্যশীল সন্তান অর্থাৎ হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া করার সুসংবাদ প্রদান করেন। ।

    অতঃপর হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ৮৬ বছর বয়স মুবারকে হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি জমীনে তাশরীফ মুবারক আনলেন। যখন তিনি হাঁটাহাঁটির বয়সে উপনীত হলেন, সেইসময় যিলহজ্জ শরীফ উনার ৭, ৮, ৯ তারিখ রাতে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন যে, তিনি উনার প্রিয় বস্তু কুরবানী করছেন। স্বপ্ন দেখার পর তিনদিনই তিনি ১০০ টি করে পশু কুরবানী করেন। এরপর তিনি আবার স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন যে, তিনি উনার সন্তান হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করছেন। এই বিষয়টি তিনি হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মিনায় নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘হে আমার প্রিয় সন্তান! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে কুরবানী করছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?’ হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি জবাব দেন, ‘হে আমার সম্মানিত পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা বাস্তবায়িত করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ সুবহানাল্লাহ!
    যখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারকে ছুরি চালালেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত জাহির হল! যতই ছুরি চালানো হোক হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কাটল না। সুবহানাল্লাহ! হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছুরির ধার পরীক্ষা করার জন্য ছুরিটি একটি পাথরে আঘাত করলেন। সাথে সাথে পাথরটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলো। হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে ছুরি! তুমি পাথরকে দ্বিখণ্ডিত করে দিলে অথচ হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কাটতে পারছো না? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ছুরির যবান খুলে দেন। ছুরি বললো, ‘হে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি আমাকে একবার কাটার জন্য আদেশ মুবারক করছেন আর আমার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সত্তরবার কাটতে নিষেধ মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ!
    এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট দেয়ার নির্দেশ মুবারক দিলেন। এই দুম্বাটি ছিল হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি যে দুম্বাটি কুরবানী করেছিলেন সেই দুম্বা; যা চল্লিশটি বসন্তকাল বেহেশতে কাটিয়েছে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি দুম্বা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন দেখলেন, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তখনও হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারকে ছুরি চালাচ্ছেন। এটা দেখে তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার বড়ত্ব, মহত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার।’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। এজন্যই একজন পিতার পক্ষে সম্ভব হয়েছে উনার প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানকে কুরবানী করে ফেলা। সুবহানআল্লাহ!

    তারপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম,হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সরিয়ে ছুরির নিচে দুম্বাটি দিয়ে দিলেন। হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বিষয়টি বুঝতে পেরে মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে বললেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’।অর্থাৎ, মহান আল্লাহ্ পাক তিনিই আমাদের খলিক্ব, মালিক, রব। উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। এজন্যই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমার সন্তানকে কুরবানী করে ফেলা। সুবহানআল্লাহ!
    হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি যবেহ না হয়ে উনার পরিবর্তে একটি দুম্বা যবেহ হচ্ছে, তখন তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করে বললেন, 'আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ অর্থাৎ, আল্লাহ্ পাক উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। উনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। এজন্যই আমার পিতার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমাকে কুরবানী করা এবং আমার পক্ষেও সম্ভব হয়েছে কুরবানী হয়ে যাওয়া। সুবহানআল্লাহ!
    সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে এটাই তাকবীরে তাশরীক। সুবহানাল্লাহ!

    More
  • 27. ১৮ বছরের নিচে কেউ কুরবানির পশু জবাই করতে পারবেনা, সরকারের ভ্রান্ত পদক্ষেপ
     

    ১৮ বছরের নিচে কেউ কুরবানির পশু জবাই করতে পারবেনা, সরকারের লোক আইন করেছেন। শিশুরা যাতে এর মাধ্যমে ‘ভয়ঙ্কর’ আর ‘অমানবিক’ কাজে অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে তাই এই ব্যবস্থা। সুশীল নাগরিক, সভ্য জাতি হিসেবে শিশুদেরকে গড়ে তুলতে আমাদের আইনপ্রণেতাগণের প্রানান্তর চেষ্টা দেখে খুশি হই। কিন্তু এসব অযৌক্তিক, ভ্রান্ত আর প্রশ্নবিদ্ধ এ্যাকশন না নিয়ে এর বিপরীতে অনেক কিছুই করার মতো আছে যাতে দেশের শিশুরা সভ্য হয়ে গড়ে উঠবে।
    আমি প্রথম কুরবানির পশু জবাই করি ১৪ বছর বয়সে, যখন আমি ক্লাশ নাইনে পড়ি। এর পর থেকে প্রতি বছর আমাদের নিজের কুরবানির পশু ছাড়াও প্রতিবেশীদের পশুও জবাই করি। আমি এখন পর্যন্ত একজন দয়ালু হৃদয়ের মানুষ। যুক্তির খাতিরে বলতে হয় যে, আমার বযসী ছেলেরা যখন মারামারি-ঝগড়া করে. এমনকি কারো কারে ফৌজদারি কেলেঙ্কারিও আছে, সেখানে আমি নিরেট একজন ‘ভদ্র’ ছেলে। অথচ তাদের কেউ কোনোদিন একটা মুরগীও জবাই করেনি।
    আামার প্রতিবেশী ধনী এক শিশুকে প্রতিদিন মুরগীর বাচ্চা ব্লেন্ড করে খাওয়ানো হয়। (মুরগির বাচ্চা ব্লেন্ড করা অমানবিক নাকি মানবিক!!)
    সেই শিশুটি প্রায় উদ্ভট কিছু কাজ করে সোরগোল বাধিয়ে ফেলে। লাঠি দিয়ে শোকেসের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে, ছোট বাচ্চাদের দেখলে শায়েস্তা করে। সে সেদিন মাথায় ওড়না বেধে ‘আইম দ্যা কিং’ বলে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে সামনের দুটো দাঁত ভেঙ্গেছে। এটা কি তার প্রতিবছর কুরবানির পশু জবাই করার কারণে হয়েছে, নাকি উদ্ভট বিদেশি কার্টুন দেখে দেখে হয়েছে?
    কাজেই আইনপ্রণেতাগণ একটু ভেবে চিন্তে আইন করুন। আমরা মুসলিম। আমাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করার জন্য আমরা যথেষ্ট জ্ঞানী। একটু সুযোগ পেলেই নানান অজুহাতে ইসলামি হুকুম আহকাম পালনে যে বাধা আপনারা সৃষ্টি করছেন তার জন্য দেশের কত ক্ষতি হচ্ছে সেটা বোঝার ক্ষমতা আপনাদের হয়নি।
    ড্রেস কোডের অজুহাতে হিজাব নিষিদ্ধ করা, পরিবেশের অজুহাতে কুরবানি নিয়ন্ত্রণ করা, অমানবিকতার দোহাই দিযে বয়স নির্ধারণ করা এরকম হাজারো অযৌক্তিক আর বৈষম্যমূলক নিয়ম করার মাধ্যমে যে ধর্মীয় উগ্রবাদের জন্ম হচ্ছে তার কাফ্ফারা দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। এসব ফালতামি বাদ দিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে সহযোগিতা করুন। আপনাদের ভালো হবে; নাইলে খারাবি আছে দেশ ও জনগণের কপালে, যার জবাবদিহীতা আপনাদেরকে করতে হবে।

    More
  • 28. চ্যানেল আই ও বাংলাদেশী হিন্দুগোষ্ঠীর কোরবানীর বিরোধীতা
     

    14222330_1687152218273180_3803001652517044406_n

    চ্যানেল আই ও বাংলাদেশী হিন্দুগোষ্ঠী কিভাবে গরু কোরবানীর বিরুদ্ধে লেগেছে- তার জন্য এই একটি খবরই যথেষ্ট। পুরোটা খবরই মিথ্যায় ভরা। দেখা যাচ্ছে, সারা বছর খবর না থাকলেও, ঠিক কোরবানীর আগ মুহুর্তে `গরুর মাংশে বিষ আছে‘ এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়। (http://goo.gl/O2twuj)

    `গরুকে বিষাক্ত ঔষধ দিয়ে মোটাতাজা করা হয় এবং সেই মাংশে বিষ আছে‘ এই কথাগুলো যে ডাহা মিথ্যা তা আপনি নিজেই যাচাই করে দেখতে পারেন। এগুলো ফিল্ড পর্যায়ে যাচাই করলে আপনি যে তথ্যগুলো পাবেন-

    ১) যদি বিষাক্ত ইঞ্জেকশন পুশ করা হয় তবে গরুরই তো মারা যাওয়ার কথা। শরীরে বিষ নিয়ে গরুগুলোকে হাটে তোলা হয় কিভাবে ?

    ২) এই সব হরমোন ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়, তবে ৩-৪ মাস আগে। পুশ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯০% ঔষধ মল-মুত্র দিয়ে বের হয়ে যায়। ৩-৪ মাস পর ঐ গরুর মাংশে কতটুকু হরমোন থাকে এবং সেটা মানুষের আদৌ ক্ষতি করতে পারে কি না, এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কেউ প্রকাশ করতে পারেনি। (http://goo.gl/Z6Gfx0,)

    ৩) খামারীরা এই সব ঔষধ মাত্রারিক্ত পুশ করে না, কারণ তা করা হলে গরু মারা যায়। ফলে তার ব্যবসা নষ্ট হয়। কেউ নিশ্চয় তার ব্যবসা ইচ্ছে করে নষ্ট করতে চায় না।

    ৪) `৫-৭ দিন আগে ইঞ্জেকশন পুশ করে মোটা করা হয়েছে‘ কিংবা বিষ প্রয়োগ করে হাজার টাকার গরু লাখ টাকায়‘ এটা অবাস্তব কথা ছাড়া কিছু নয়। এত তাড়াতাড়ি গরু মোট হয় না। আর শেষ সময় পুশ করার কারণই নেই, কারণ এসব হরমোন পুশ করলে গরু দুর্বল হয়ে যেতে পারে, আর দুর্বল গরু হাটে তোলা কঠিন।

    ৫) ৭৭ কেজি গরুর মাংশে যে পরিমাণ স্টেরয়েড থাকে, তার সমপরিমাণ থাকে একটি ডিমে। যারা স্টেরয়েডকে বিষ বলে দাবি করছে, তারা যেন আগে ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ করে। ( http://goo.gl/3dx2mf)

    ৬) গরু মোটা তাজাকরণ প্রকল্প সরকারীভাবে যুব উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রেনিং দেওয়া হয়। এটা যদি খারাপ কাজ হয়, তবে সরকারীভাবে শেখানো হলো কেন ??

    ৭) গরু কিভাবে মোটাতাজা করা হয়, তা দেখার জন্য আপনাকে একটি খামারে যাওয়া প্রয়োজন। খামারে গেলে আপনি দেখতে পারবেন- এই সব গরুকে কত উন্নতমানের ও প্রচুর খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। গরুকে সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে, গরুর পেছনে প্রচুর পরিশ্রম করছেন একজন খামারী। এমনকি অনেক খামারে গরুর মাথার উপর ফ্যান সেট করা হচ্ছে, রাতের বেলায় মশারী টাঙ্গিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলতে গেলে প্রত্যেকটা মোটা তাজা গরুকে সন্তানের মত লালন পালন করে থাকে খামারীরা, নয়ত গরুর এত সুন্দর স্বাস্থ্য হওয়া কখনই সম্ভব নয়।

    একজন খামারী ৩-৫ বছর বহু কষ্ট করে, সন্তানের মত লালন পালন করে, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি গরুকে মোটাতাজা করে কোরবানীর হাটে গরুটি তুলবে বলে। অথচ কোরবানীর ঠিক আগ মুহুর্তে মিথ্যা অপপ্রচার করে একজন খারামীর এত কষ্ট নষ্ট উদ্দত হয় মিডিয়া। এ ধরনের মিডিয়াকে ভালো বলা যায় কিভাবে ? দেখা যাবে ভারতীয় হাইকমিশনের সামান্য কটা টাকার লোভে সে হাজার হাজার খারামীকে পথে বসিয়ে দেয়ার এজেন্ডা নিয়েছে, যেন কোরবানী ঈদে বাংলাদেশের মুসলমানরা গরু কোরবানী না করতে পারে, ভারতের মত বাংলাদেশেও গরু কোরবানী বন্ধ হয়ে যায়।

    আসুন দেশ ও জাতির শত্রু এই বিশ্বাসঘাতক মিডিয়াগুলোকে বর্জন করি

    More
  • 29. কোরবানীর হাট নিয়ে প্রথম আলো’র বিরোধীতা
     

    14202635_1686991471622588_9024375023998411779_n

    প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও প্রথম আলোর কোরবানীর হাট নিয়ে চুলকানি অব্যাহত রয়েছে। মাঠ যেন ওর বাবার, তাই অবৈধ ঘোষণার দায়িত্ব ওর।

    বাটপারের জাত প্রথম আলো কোরবানী হাট বসেছে দেখে ঘুম হারাম করেছে,
    বলছে - ৩ দিন দিনের আগে নাকি হাট বসতে পারবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশে হাট কবে বসতে তা খাঃপোঃ প্রথম আলোকে ঠিক করার দায়িত্ব কে দিযেছে ? ওর দায়িত্ব তো সানি লিওনকে নিয়ে নিউজ করা, কোরবানী নিয়ে তার মাথা ব্যথা কেন ??

    দেখবেন চোরের বাচ্চা প্রথম আলো কিন্তু মন্দির বানানোর সময় বলে না-
    ‘এতগুলো মন্দির কেন’,
    রাস্তা বন্ধ করে মন্দির কেন’,
    ‘এত এত পূজা কেন ?’ এই সব খবর তারা ছাপে না।

    আসলে সৃষ্টিকর্তার বিচার সবচেয়ে ভালো। মানুষের সাথে বেঈমানি করে বলেই তো প্রথম আলো’র লতিফুরের বংশধরকে (মেয়ের পর নাতি) একের পর এক তুলে নিচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। তাও লতিফুরের হুশ হচ্ছে না।

    বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত প্রথম আলো’র নামক চরম ভ্রান্তিমূলক পত্রিকাটিকে চিরতরে বয়কট করা।

    More
  • 30. আপনি জানেন কি কুবানীকে অবজ্ঞা করে সর্বপ্রথম কে ধ্বংশ হয়ে ছিল?
     

    14212824_10154351052507936_4324613492633532365_n

    সে ব্যক্তি হল কাবিল---
    আল্লাহ পাক যখন হাবিল আলাইহিস সালাম এবং কাবিলকে উৎকৃষ্ট জিনিষ আল্লাহ পাকের রাস্তায় কুরবানী করার কথা বলেছিলেন , তখন হাবিল আলাইহিস সালাম সবছেয়ে সেরা পশু দান করেছিলেন । কিন্তু কাবিল দিয়েছিল নিকৃষ্ট। অর্থাৎ কাবিল কুরবানিকে অবজ্ঞা করেছিল । যার কারণে সে হয়েছে ধ্বংস ।
    এই নিকট অতীতেও গৌর গোবিন্দ ধ্বংস হয়েছিল কুরবানীকে অবজ্ঞা করার কারণে।
    বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে মাথায় রাখা উচিত তারা যদি কুরবানীকে অবজ্ঞা করে তাহলে ধ্বংস হবেই হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

    More
  • 31. ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে গরুর বেপারীদের হয়রানি করা চলবেনা।
     

    14222273_286727848377534_2776837957368345301_n

    ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে গরুর বেপারীদের হয়রানি করা চলবেনা।

    খবরে প্রকাশ অবৈধ গরুর হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবে প্রশাসন। (http://goo.gl/E77R5u)। গরুর হাট আবার অবৈধ হয় কেমনে? কুরবানির পশুর চাহিদা বিবেচনা করেই বিভিন্ন এলাকায় গরুর হাট বসে। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হাট হলে অননুমোদিত হাট বসবে এটাই স্বাভাবিক। মুসলমানদের ধর্মিয় অধিকার ও কুরবানির সম্মান রহ্মায় সরকারের উচিত বর্তমানের তুলনায় অন্তত তিনগুণ হাটের ব্যবস্থা করা। এটা এদেশের ২০ কোটি মুসলমানদের দাবী। কোন ষড়যন্ত্র নয়, ঢাকায় কমপহ্মে ৬০ টি হাট সহ সারাদেশে অন্তত বর্তমানের তিন গুন হাটের ব্যবস্থা করুন। ভ্রাম্যমান আদালতের নামে ভারতের গোরহ্মা বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ করুন।

    More
  • 32. আমার সুবিধামতো স্থানেই আমি পশু জবাই করব, বর্জ্য পরিষ্কার করার দায়িত্ব সরকারের।
     

    14202602_1642229789401475_4361023569884429808_n

    সরকারের নির্ধারিত স্পটে আমার কোরবানির পশু জবাই করতে মোটেও রাজি না। কারণ ঐ নির্দিষ্ট স্পটে যখন কয়েক হাজার মানুষ তার কোরবানির পশু নিয়ে জবাই করাতে যাবে তখন সম্ভাব্য পরিস্থিতি কি হতে পারে তা কল্পনা করলে আপনারও গা শিওরে ওঠবে।
    - প্রথমে স্পটে গিয়েই দেখবেন সেখানে আরেকটি হাট বসে গেছে, তবে সেটা পশু বিক্রির হাট নয়, কুরবানী হতে আসা গরু-ছাগলের হাট। (যেহেতু মহল্লার সব মানুষ ওই এলাকার নির্ধারিত স্পটে কোরবানি দিতে আসবে।)
    - যদি সরকারের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা (আর্মি,পুলিশ,বিজিবি..) থাকে তাহলে সুশৃঙ্খল একটি লাইন হতে পারে বলে আশা করা যায়। তো সেখানে আপনাকে আপনার গরু/ছাগলসহ লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকতে হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হবে তা কেউ বলতে পারবেনা। ১ম দিনে নাও হতে পারে।
    - এতক্ষণ আপনার গরু/ষাড়/ছাগল.. আপনাকেই শক্তহাতে কন্ট্রোল করতে হবে। (কারণ লাইনে আপনার পশু ধরার জন্য সরকারি লোক থাকবেনা)
    - আপনার সিরিয়াল আসার পর গিয়ে দেখবেন আপনার পশু শোয়ানো হচ্ছে আরো ১০০টি পশু জবাই করা হয়েছে এমন রক্তেমাখা কর্দমাক্ত স্থানে।
    - নিজের কোরবানির পশু নিজিই জবাই করা সুন্নত কিন্তু এখানে সেই সুন্নত আদায় সম্ভব নয়। সরকারে নির্ধারিত ইমামই জবাই করবে, তবে সে যে বাতিল ৭২ বাহাত্তুর ফিরক্বার (জাহান্নামীর) অন্তর্ভূক্ত হবেনা তার কি কোন গ্যারান্টি নেই।
    - নোংরা হুলুস্থুল পরিবেশে আপনার পশু জবাইয়ের পর সেখানে স্বাভাবিকভাবে পশুর দম যাওয়ার সময় দিবেনা। দম যাওয়ার আগেই চামড়া ছেলা শুরু হয়ে যাবে।
    - সেই জবাইকৃত পশুর গোশত বাড়িতে আনার জন্য সরকার কোন পরিবহন ব্যবস্থা করবে না, সূতরাং কিভাবে সেখান থেকে গোশত আনবেন সেটা ভাবতে থাকুন।
    - একইসাথে বাড়িতে আনা পর্যন্ত গোশতের নিরাপত্তা কতটুকু থাকবে সেটাও ভাবুন।
    - ভাগ্যক্রমে সিরিয়ালে ১ম দিনে সুযোগ পেয়ে গেলেও কোরবানির গোশত বাড়িতে নিতে রাত হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। অর্থাৎ ঈদের দিন কোরবানির গোশত খাওয়ার আশা মন থেকে কন্ট্রোল+শিফট দিয়ে ডিলিট দিতে হবে।

    More
  • 33. নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী বাস্তব প্রেক্ষাপট
     

    14233141_10154346942957936_7546147804902373083_n

    সরকারি প্রশাসন পশু জবাইয়ের স্থান, ইমাম ও কসাই নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছে এসব নির্দিষ্ট স্পটে কুরবানী করার জন্য। সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত মুসলমানগণ উনাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। সরকারি প্রশাসন যেসব তথ্য-উপাত্ত এবং হিসাব দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব এবং অকল্পনীয় বিষয়। যা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ।
    (১). একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু ঢাকা শহরেই পবিত্র ঈদুল আযহা উনার দিন পশু জবাই হবে কমপক্ষে ৩০ লাখ। ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশন এবার সর্বমোট ১১৫০টি স্পটের ব্যবস্থা করেছে। তাহলে প্রতিটি স্পটে কমপক্ষে ৩০ লক্ষ/১১৫০ = ২৬০৯টি পশু কুরবানী করতে হবে এবং গোশতও বানাতে হবে। রাজধানী ঢাকায় এমন কোনো স্পট নেই যেখানে একসাথে ২৬০৯টি গরু/ছাগল জবাই করা সম্ভব। আর গোশত বানানোর তো প্রশ্নই উঠে না। ২৬০৯ বাদই দিলাম রাজধানীতে ১০০ গরু জবাই করা যাবে এমন মাঠের সংখ্যাই হাতেগোনা কয়েকটি। দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে মাঠ রয়েছে মাত্র ৩০-৩৫টি। তাহলে ঈদের দিনে কি এতগুলো পশু জবাই সম্ভব?
    (২). যদি সরকারি প্রশাসনের হিসাব ধরি, তাহলে এবছর রাজধানীতে সম্ভাব্য পশু কুরবানীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪১০টি। (প্রকৃত সংখ্যা কমপক্ষে ৩০ লক্ষ)। তাহলে তাদের হিসাবে প্রতি স্পটে গরু কুরবানী হবে ৩৬১৪১০/১১৫০ = ৩১৫টি। একটা স্পটে ৩১৫টি গরু জবাই করে প্রসেসিং করতে কত সময় লাগবে সে হিসাব কি প্রশাসন করেছে?
    (৩). কুরবানীর পশু জবাইয়ের জন্য দেশের সব সিটি কর্পোরেশন ও জেলা শহরে সম্ভাব্য ৬২৩৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পশু কুরবানীতে অংশ নেবেন ৪৮৮৫ জন ইমাম। প্রশ্ন হলো- স্পট ৬২৩৩টি; কিন্তু ইমাম ৪৮৮৫! বাকী ১৩৪৮ স্পটে কুরবানী করবে কে? আবার একজন ইমামের পক্ষে শত শত গরু জবাই করা কি সম্ভব?
    (৪). সরকারি প্রশাসনের হিসাব মতে, সারাদেশে গরু জবাই হয় ৩০-৪০ লক্ষ (প্রকৃতসংখ্যা ১ কোটিরও অধিক)। তারা ১১টি সিটি কর্পোরেশনের জন্য কসাই ঠিক করেছে ১২৬৩৮ জন। তাদের ভাষ্যমতে, যদি ১১টি সিটি কর্পোরেশনে ১৫ লক্ষ গরুও জবাই হয়, তাহলে একজন কসাইকে ১৫ লক্ষ/১২৬৩৮ = ১১৯টি গরুর গোশত বানাতে হবে। একজনের পক্ষে কি ঈদের দিনে ইহা সম্ভব?
    (৫). ঈদের নামায শেষে সবাই যখন নির্দিষ্ট মাঠে আসতে থাকবে- দেখা যাবে সেখানেই একটি বড়সড় পশুর হাটের মতো জটলার সৃষ্টি হবে। এত বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে সুষ্ঠুভাবে জবাইয়ের যাবতীয় কাজ করা কতটুকু সম্ভব? ১ম দফার কুরবানীতেই যখন স্পট ভর্তি হয়ে যাবে, তখন বাকি কুরবানীদাতারা কি সিরিয়ালের জন্য স্পটের পাশে তাদের কুরবানীর গরু-ছাগল নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকবেন?
    (৬). পশু জবাই করেই কি শুধু শেষ! এরপর একেকটি গরুর চামড়া ছিলানো, গোশত কাটা, গোশত ভাগ করা এসবে ৩-৪ জন দক্ষ কসাইয়ের অন্ততপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। তাহলে এতক্ষণ সময় বাকি কুরবানীদাতাদের অপেক্ষা কি ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না? প্রথমবার জবাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরই কি সিটি কর্পোরেশনের লোকেরা পরবর্তী দফার জবাইয়ের জন্য স্পট পরিষ্কার করবে? রক্তে ভিজে থাকা স্পটে কি পরবর্তী পশু জবাই করা যাবে?
    (৭). পশু জইয়ের পর যাবতীয় কাজ শেষে বাসায় গোশত নিয়ে যাওয়ার জন্য ঈদের দিন পর্যাপ্ত পরিমাণ যানবাহন কি সময়মতো পাওয়া যাবে? কুরবানীদাতার পরিবারের ঈদের মূল আনন্দ পশু দেখা, জবাই দেখা, গোশত বানানোতে বাচ্চারাসহ শরীক হওয়া, গোশত বিতরণ করা, আত্মীয়দের বাসায় সময়মতো গোশত পৌঁছানো এবং ওই দিনের প্রথম খাবার কুরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া, গরিবদের নিরিবিলি গোশত দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এসবের আনন্দ আর সুবিধা থেকে নগরবাসী চরমভাবে বঞ্চিত হবে।
    (৮). একসাথে হলে বাসায় গোশত আনা-নেয়াসহ চামড়া ছিনতাই, পশু ছিনতাই, গোশত ছিনতাইসহ চাঁদাবাজ-মাস্তান-সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত হবে। সিন্ডিকেট চক্রের কালো থাবায় মাদরাসার ইয়াতীম ও মিসকিনরা কুরবানীর চামড়া বিক্রির টাকা থেকেও বঞ্চিত হবার আশঙ্কা রয়েছে।
    (৯). এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্টে পড়তে হবে। এখন যেরকম কুরবানীর হাটের বাজার নিয়ে দলাদলী, চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়, তেমনি কুরবানীর জায়গা নিয়েও হবে। এতে করে মানুষের গোশত বণ্টনসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হবে। গরুর চামড়াগুলো গরিবদের হাতে যাওয়ার পরিবর্তে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাবে। তাতে দেখা যাবে এতসব নানা ঝামেলার কারণে মানুষ কুরবানী দিতে বিরক্তি বোধ করবে এবং মুসলমানদের সম্মানিত পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাইল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাদের স্মৃতি বিজড়িত কুরবানী যার উপর ওয়াজিব হয়েছে সে তা পালনে অজুহাত খুঁজে পাবে। নাউযুবিল্লাহ!
    মুসলমানগণ যুগযুগ ধরে যার যার সুবিধার আলোকে যার যার পছন্দের স্থানে কুরবানীর পশু জবাই করে আসছেন। এত যুগ ধরে কোনো সমস্য হয়নি, কিন্তু এবছর হঠাৎ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কতিপয় কথিত পরিবেশবাদীর এসব অযৌক্তিক চিন্তাপ্রসূত সিদ্ধান্ত মুসলমানদের উপর জোর করে চাপানোর মতলবটা কি? সরকার এবং কথিত পরিবেশবাদীদের এহেন সিদ্ধান্ত চরম মূর্খতার শামিল। ইতঃপূর্বে তো পরিষ্কার-পরিছন্ন ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে পরিবেশ বিনষ্টের অজুহাত ও দোহাইয়ের কারণটা খুঁজে বেরা করা দরকার। পরিষ্কার কথা- সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওয়াজিব বিধান পবিত্র কুরবানী নিয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন চান না দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।

    More
  • 34. স্টেরয়েড নয় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজা করা হয়।
     

    14224743_10154343856002936_8947834633773886301_n

    কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরুমোটাতাজাকরণ করা যায়।
    গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (Beef Fattening) বলতে এক বা একাধিক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঐ গরুর শরীরে অধিক পরিমাণ গোশত/চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়। অধিক গোশত উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হূষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায় তবে অনেক সময় পরিস্থিতিভেদে ১২০-১৪০ দিনও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। দেশের গোশতের ঘাটতি পূরণ ও বর্ধিত জনসংখ্যার কাজের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।
    মোটাজাতকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমুহঃ ক. গরু নির্বাচন খ. স্থান নির্বাচন গ. বাসস্থানের গঠন ঘ. খাদ্য ব্যবস্থাপনা
    দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে যারা গরুর খামার করেন উনারা উপরোক্ত প্রাকৃতিক নিয়মেই গরু মোটাতাজাকরন করে থাকেন। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষি মিডিয়া ও নাস্তিকেরা কুরবানির ঈদ এলেই প্রোপাগান্ডা করে থাকে বাংলাদেশে নাকি ষ্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটা তাজাকরনের হিড়িক পড়েছে ! অথচ সারাবছর ধরে গরু কিভাবে মোটাতাজা করা হচ্ছে তার খবর তারা বলেনা। একজন খামারী যে ৩-৪ মাস ধরে গরুর পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং টাকা খরছ করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে তার খবর তার কথা প্রচার করেনা। মূলত বাংলাদেশে স্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরন করা হচ্ছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরনের দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা দেশের চিত্র হতে পারেনা।

    আরো জানতে ভিসিট করুন- http://goo.gl/8bneg5

    More
  • 35. অসীম নিয়ামতে ভরপুর একটি খাদ্য হল গরুর গোশত।
     

    14232474_10154343423987936_1420289491371749624_nপবিত্র কুরবানী ঈদের আগে নাস্তিকরা অপপ্রচার করে থাকে গরুর গোশত শরীরের জন্য নাকি ক্ষতিকর! নাউযুবিল্লাহ। নাস্তিকের দল সারাবছর ধরে গরুর গোশত আরামসে ভক্ষণ করে কিন্তুঠিক কুরবানির সময়ে এসে বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন তার মধ্যে কোনো ক্ষতির বিষয় থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গরুর গোশত খেয়েছেন অর্থাৎ গরুর গোশত খাওয়া সুন্নত ।
    গরুর গোশতের উপকারীতা নিন্মরুপ-
    ১. প্রোটিনের উৎস:
    মাত্র ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম গরুর গোশত খেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদার অর্ধেক পূরণ হয়ে যায়। গরুর গোশত থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায় তাতে পেশি গঠনের সব এমাইনো এসিড আছে। সুগঠিত গোশতপেশি শরীরে বিভিন্ন এনজাইম ও হরমোন উৎপাদিত হয়। গরুর গোশত স্পার্মের (শুক্রাণুর) পরিমাণ ও গুন বৃদ্ধি করে বন্ধ্যাত্বতা দূর করে।
    ২. আয়রনের উৎস:
    গরুর গোশতে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ আছে। সপ্তাহে দুইবার গরুর গোশত খেলে রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ হয়। মাত্র ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশতে ২.৪ মিলিগ্রাম আয়রন আছে।
    ৩. জিঙ্কের উপস্থিতি:
    গরুর গোশত দেহের জিঙ্কের অভাব পূরণ করে। জিঙ্ক মানুষের পেশিকে সবল করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। বেশিরভাগ মানুষের শরীরের জন্যই প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক প্রয়োজন। প্রতি ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশতে ৫.৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে।
    ৪. ভিটামিন বি:
    গরুর গোশত বিভিন্ন রকম ভিটামিন-বি-এর একটি অন্যতম উৎস। সুস্থ শরীরের জন্য প্রাকৃতিক উৎসের ভিটামিন-বি গ্রহণ করা জরুরী। গরুর গোশতে আছে ভিটামিন-বি-১২, যা নার্ভ সচল রাখে ও ভিটামিন-বি-৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও গরুর গোশতে নিয়াসিন আছে যা হজমে সহায়তা করে এবং রিবোফ্লাবিন যা চোখ ও ত্বক ভালো রাখে।
    ৫. প্রচুর পরিমাণ সেলেনিয়ামও পাওয়া যায়ঃ
    সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এ সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত প্রোটিনকে সেলোপ্রোটিন বলে। সেলেনিয়ামে ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘সি’, গ্লুটাথায়োনিন এবং ভিটামিন বি-৩ রয়েছে। এ ছাড়া সেলেনিয়ামে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে ও অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রভৃতির ঝুঁকি কমায়। সেলেনিয়াম শুক্রাণু তৈরিতে এবং পুরুষের বন্ধ্যত্ব দূর করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এইডস প্রতিরোধে এবং নিরাময়ে সেলেনিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম।ইহা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখে।
    ৬. গরুর গোশতে আছে Conjugated Linoleic Acid (CLA)। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে।
    ৭. গরুর গোশতে Creatine থাকে যা মস্তিষ্ক ও পেশীতে শক্তি সংরক্ষন করে।
    ৮. কিছু polyunsaturated acids বিশেষ করে eicosapentaenoic acid (EPA), docosahexaenoic acid (DHA) পাওয়া যায় শুধুমাত্র প্রাণীজ উৎস হতেই, যা Anti-atherogenic, anti-thrombotic and anti-inflammatory হিসেবে কাজ করে
    ৯. ফসফরাস : যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি।
    ১০. বর্ধনশীল বাচ্চাদের জন্য গরুর গোশতে উপকারীতাঃ
    বর্ধনশীল বাচ্চা বা টিনএজার দের সমর্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গরুর গোশতের তুলনা নেই। শুধু শারীরিক বর্ধন নয়, বুদ্ধি-বৃত্তিক গঠন এবং রক্ত বর্ধনেও এটি ভূমিকা রাখে। ৩ আউন্স গরুর গোশতে আছে ৯-১৩ বছর বয়সী বাচ্চার দৈনিক চাহিদার ১২৫% ভিটামিন বি ১২, ৯০% প্রোটিন, ৭৪% জিংক, ৪২% সেলেনিয়াম, ৩২% ভিটামিন বি ৬, ৩২% আয়রন, ২৯% নায়াসিন, ২৩% রিবোফ্লেভিন এবং ১৬% ফসফরাস।

    কিছু ভ্রান্ত ধারনার সংশোধনঃ
    ১. গরুর গোশত মানেই অত্যধিক ক্যালরি নয়ঃ
    আপনি যদি ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম চর্বি ছাড়া গরুর গোশত খান তাহলে এটা থেকে আপনার দৈনিক ক্যালরির চাহিদার মাত্র ১০% ক্যালরি আসবে। ( ৩ আউন্স মাংসে আছে ২০০ ক্যালরি এবং দৈনিক ক্যালরি চাহিদা ২০০০ ক্যালরি )
    ২. গরুর গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রাঃ
    ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ৪৭ মিগ্রা থেকে ৫৩ মিগ্রা। একজন সুস্থ্য মানুষের কোলেস্টেরল এর দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হলো ৩০০ মিগ্রা এবং হার্টের রোগীর জন্য ২০০ মিগ্রা। সুতরাং ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশত কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক নীচে। তুলনাটা আরেকটু ভালো করে বুঝাতে বলি, একটি ডিমের কুসুমে আছে ২১২ মিগ্রা কোলেস্টেরল। সুতরাং সব দোষ গরুর গোশত একার না।
    ৩. গরুর গোশতে আছে পুষ্টিঃ
    ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশত থেকে যেই পরিমাণ জিংক আসে সেই পরিমাণ জিংক পেতে আপনাকে খেতে হবে ৩ আউন্স ওজনের ১১ টুকরো টুনা মাছ, এই পরিমাণ আয়রনের জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের ৭ টুকরা মুরগীর বুকের গোশত, এই পরিমাণ আয়রনের জন্য খেতে হবে ৩ কাপ স্পিনাচ, এই পরিমাণ রিবোফ্লেভিন এর জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের আড়াই টুকরা মুরগীর বুকের গোশত এবং এই পরিমাণ থায়ামিন এর জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের ২ টুকরা মুরগীর বুকের গোশতে।

    শুধু তাই নয় হিন্দু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও গরুর গোশতের উপকারীতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির প্রতিষ্ঠাতা কর্মকর্তা বিজ্ঞানী প্রবীণ পিএম ভার্গব। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে। এ ডাক্তার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে ৬ নভেম্বর যে চিঠি দিয়েছে, তাতে সে উল্লেখ করেছে গরুর গোশত প্রসঙ্গ। চলমান সংহিতায় একথা উল্লেখ করে বলেছে, 'গ্যাস সমস্যা, অনিয়মিত জ্বর, শুকনো কাশি, ক্লান্তি, কঠোর পরিশ্রমের জন্য অত্যধিক খিদের থেকে শরীরে যাদের ডিসঅর্ডার দেখা দেয়, যারা এই কারণে অত্যধিক রোগা হয়ে যান, তাদের জন্য গরুর গোশত অত্যন্ত উপকারী ঔষধ হিসেবে কাজ করে। -http://bit.ly/2bLIytV

    তাহলে যারা গরুর গোশতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা কিসের ভিত্তিতে চালাচ্ছে ? তারা কি গরুর গোশতের এসকল উপকারীতা অস্বীকার করতে পারবে ?

    More
  • 36. নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি সরকারের একটি অবাস্তব পরিকল্পনা
     

    14199578_1698686467118822_8695831405701245316_n

    নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি
    সরকারের একটি অবাস্তব পরিকল্পনা
    ''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''"'''''''''''''''''''""''"''''"""'"""'''''"'""""
    আমাদের দেশের সরকার কখন কোন সিদ্ধান্ত কোন কারনে বা কিসের ভিত্তিতে নিচ্ছেন তা এদেশের সাধারন মানুষ কখনোই কিছু জানেনা। কিন্তু সাধারন মানুষই রাষ্ট্রের মালিক। সরকার কর্মচারী মাত্র।

    কুরবানি নিয়ে গত ২/৩ বছর যাবত সরকারের উদ্ভট সব সিদ্ধান্ত আসলে সরকারি সিদ্ধান্ত নাকি অন্য কারো মনোতুষ্টির জন্য এসব হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত তা ভাবার অবকাশ রাখে। সরকার নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করা তেমনি একটি অবাস্তব ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৩০ লহ্ম পশুর জবাই ও কাটাকাটির মত বিষয় কিভাবে সরকার ব্যাবস্থা করবে??

    গত বছরের অভিজ্গতার আলোকে বলা যায়- এটা হলো সরকারিদলের লোকদের পকেট ভারি করার একটা প্রকল্প। সরকার নির্ধারিত স্থানে জবাই করিয়ে সরকারিদলের লোকজনকে একচেটিয়া চামড়ার ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতেই এতসব আয়োজন। কারন যার যার সুবিধা মত জায়গায় পশু কুরবানি করলে সরকারি দলের লোকজন এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত জায়গায় কুরবানি করলে সবকিছু যেহেতু তাদের নিয়ন্ত্রনেই থাকবে সেহেতু তাদের লুটপাটে কোন সমস্যা হবেনা। তাই এই আয়োজন।

    আমাদেরকে আমাদের মত করে কুরবানি করতে দিন, কোন ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষ মানবেনা।

    More
  • 37. কুরবানী যোগ্য পশু ।
     

    14202764_1696953287292140_8986271489803039515_n

    কুরবানী যোগ্য পশু
    ----------------------------
    সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-
    لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ
    অর্থ : “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানী এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ওই নির্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) মহান আল্লাহ পাক-উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন। (সূরা হজ্জ শরীফ : আয়াত শরীফ ৩৪)
    উপরোক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা সুস্পষ্ট যে, কুরবানী যোগ্য পশু হতে হবে-
    ক) গৃহপালিত
    খ) চতুষ্পদ জন্তু বা পশু
    অর্থাৎ বন্য পশু দ্বারা কুরবানী হবে না আবার পাখী দিয়েও কুরবানী হবে না। প্রাণীগুলো অবশ্যই হালাল প্রাণী হতে হবে।
    কুরবানী যোগ্য গৃহপালিত পশুর বর্ণনা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে।
    عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ ذَبَحَ الِنَّبُّى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الذَّبْحِ كَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ اَمْلَحَيْنِ مَوْجَوْئَيْنِ.
    অর্থ : “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক কুরবানী উনার দিন সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের শিং বিশিষ্ট খাসীকৃত দু’টি তাজা দুম্বা কুরবানী করলেন।” (আবূ দাঊদ শরীফ)
    عَنْ حَضْرَتْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَسَمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِينَا ضَحَايَا فَأَصَابَنِي جَذَعٌ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهُ أَصَابَنِي جَذَعٌ ‏فَقَالَ ‏ضَحِّ بِهِ.
    অর্থ : “হযরত উক্ববা বিন আমির জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা কুরবানীর পশু বিতরণ করলেন। হযরত উক্ববা বিন আমির জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ভাগে পড়ল এক ছয় মাসের মেষ। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার ভাগে ছয় মাসের মেষ পড়েছে।হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যুত্তরে বললেন, এটা দিয়েই আপনি কুরবানী করুন। (মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
    عَنْ حَضْرَتْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ لَهُ مُجَاشِعٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ فَعَزَّتِ الْغَنَمُ فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ ‏إِنَّ الْجَذَعَ يُوَفِّي مِمَّا يُوَفِّي مِنْهُ الثَّنِيُّ
    অর্থ : “হযরত আছিম বিন কুলাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর সাথে ছিলাম, উনার নাম মুবারক হলো মুজাশি’। তিনি ছিলেন সুলাইম গোত্রের। ছাগল সংকট দেখা দিল। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে ঘোষণা করার জন্য নির্দেশ দিলে। সে এ মর্মে ঘোষণা দিল যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: নিশ্চয় ভেড়ার জাযআহ সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট যে ক্ষেত্রে দাঁত ওয়ালা পশু যথেষ্ট।” (আবু দাঊদ শরীফ)
    হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
    ثُـمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ فَنَحَرَ ثَلاَثًا وَسِتِّينَ بِيَدِهِ ثُـمَّ أَعْطَى عَلِيًّا فَنَحَرَ مَا غَبَرَ وَأَشْرَكَهُ فِى هَدْيِهِ ثُـمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَجُعِلَتْ فِى قِدْرٍ فَطُبِخَتْ فَأَكَلاَ مِنْ لَـحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا
    অর্থ : ‘অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর স্থানে এসে নিজ হাতে ৬৩টি উট নহর করেন আর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালামকে বাকী উটগুলো নহর করার দায়িত্ব দেন এবং উনাকে উনার কুরবানীর মধ্যে শরীক করে নেন। অতঃপর প্রত্যেকটি উট থেকে এক টুকরা করে গোশত পাতিলে একত্রিত করে রান্না করতে বলেন। অতঃপর উনারা উভয়েই উক্ত গোশত থেকে আহার করেন এবং সুরুয়া পান করেন।” (মুসলিম শরীফ)
    অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
    وَضَحَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَاءِه بِالْبَقِرَ
    অর্থ : “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন।” (মুসলিম শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
    গরুর ন্যায় মহিষের যাকাতের উপর কিয়াস করে মহিষ দ্বারা কুরবানী করাও জায়িয। (মিরআত (২/৩৫৩-৫৪)
    অর্থাৎ কুরবানী যোগ্য পশু হচ্ছে দুম্বা, মেষ/ভেড়া, বকরী/ছাগল, উট, গরু, মহিষ।

    More
  • 38. আইইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনের সময়সীমা
     

    14184378_1292614807445859_7802431368166879846_n

    আইইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনের সময়সীমা

    পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত-
    عَنْ حَضَرَتْ عَلِىّ عَلَيْهِ السَّلَامَ قَالَ النحر ثلاثة أيام وفي لفظ النحر ثلاثة أيام أفضلها أولـها.
    অর্থ : “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, কুরবানী তিন দিন, এই তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন উত্তম।” (মুয়াত্তা মালিক, ই’লাউস সুনান ১২/২৩২)
    অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত-
    عَنْ حَضْرَتْ نَافِعٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ عَبْدُ اللهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ الاُضْحٰى يَوْمَانِ بَعْدَ يَوْمِ الاُضْحٰى.
    অর্থ : “হযরত নাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইরশাদ করেন, ঈদুল আদ্বহা দিবসের পর মাত্র দুই দিন কুরবানী করা দুরস্ত।” (মুয়াত্তা মালিক)
    হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুরবানীর সময়সীমা ৩ দিন অর্থাৎ যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত।
    উপরোক্ত বর্ণনা হতে বুঝা গেল কুরবানীর শেষ সীমা হচ্ছে যিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখের সূর্যাস্তের সাথে সাথে।
    [যেহেতু আরবী মাসের হিসাব হয় চাঁদের ঘূর্ণনের সাপেক্ষে। তাই সূর্যাস্তের সাথে সাথে আরবী মাসের নতুন দিন শুরু হয়ে যায়।]
    এখন তাহলে কুরবানীর শুরুর সীমা কি হবে?
    এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عَنِ حَضْرَت الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِى اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اَوَّلَ مَا نَبْدَاُ فِي يَوْمِنَا هَذَا اَنْ نُصَلّيَ ثـمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ اَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ نَـحَرَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَاِنَّـمَا هُوَ لَـحْمٌ قَدَّمَهُ لاَهْلِهِ لَيْسَ مِنَ النُّسْكِ فِي شَيْءٍ.
    অর্থ : “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক দিলেন এবং তাতে বললেন, আমাদের এই পবিত্রতম দিনে তথা ঈদুল আদ্বহার দিনে সর্বপ্রথম কাজ নামায আদায় করা, অতঃপর নামায থেকে ফিরে গিয়ে কুরবানী করা। সুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরীক্বা মতো হবে। আর যে নামাযের আগেই কুরবানী করবে (তার কাজ আমাদের তরীক্বা মতো হয়নি)। অতএব তা স্বীয় পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত হিসেবে গণ্য হবে, মহান আল্লাহ পাক-উনার জন্য উৎসর্গিত কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে না।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ইবনে হিব্বান শরীফ)
    ছলাত বা নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুরবানীর পশু যবেহ না করে ছলাতের খুতবা দু‘টি শেষ হওয়ার পর যবেহ করা উত্তম। কেননা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রকম করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
    عَنْ حَضْرَتْ جُنْدَبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُـمَّ خَطَبَ ثُـمَّ ذَبَحَ
    অর্থ : “হযরত জুনদাব ইবনে সুফিয়ান আল-বাজালী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর দিন নামায আদায় করলেন অতঃপর খুতবা দিলেন তারপর পশু যবেহ করলেন।” (বুখারী শরীফ)
    তবে কেউ ছলাতুল ঈদিল আদ্বহার ডান দিকে সালাম ফিরানোর পর বাম দিকে ‘আসসালামু’ এ পর্যন্ত সালাম ফিরানোর পরও যদি কুরবানী করে তবে তা শুদ্ধ হবে।

    সুতরাং আইইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনের সময়সীমা হচ্ছে- যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে ঈদের নামাযের সালাম ফিরানোর পর থেকে যিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। ঈদের নামাযের পূর্বে ও যিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পর কুরবানী করলে কুরবানী হবে না, বরং স্বাভাবিক পশু জবাই হবে।

    বি.দ্র. রাতের বেলায় কুরবানীর পশু জবাই করা নাজায়িজ নয়, তবে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সুন্নত দ্বারা প্রমাণিতও নয়।

    More
  • 39. কুরবানীর জন্য পশু দোষ-ত্রুটি মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়
     

    14142022_1292165590824114_5768779676546890335_n

    কুরবানীর পশুর শরয়ী ত্রুটি

    কুরবানীর জন্য পশু দোষ-ত্রুটি মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। পশুর ত্রুটিগুলি দু’ভাগে বিভক্ত।

    (১)আয়িবে ফাহিশ অর্থাৎ বড় ধরনের দোষ বা ত্রুটি। যার কোন একটি পশুর মধ্যে থাকলে উক্ত পশু দ্বারা কুরবানী শুদ্ধ হবে না। যেমন- এমন দূর্বল পশু, যার হাড়ে মজ্জা বা মগজ শুকিয়ে গেছে। অথবা যে সকল পশু কুরবানীর জায়গা পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেনা। সেসব পশুর একটি পা এরূপ নষ্ট হয়ে গেছে যে, উক্ত পা দ্বারা চলার সময় কোন সাহায্য নিতে পারে না। যে পশুর কান অথবা লেজের তিনভাগের একভাগ কাটা গেছে, যে পশুর শিং-এর গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে পশুর কান একেবারে গজায় নেই, অর্ধেক দাঁত পড়ে গেছে ইত্যাদি পশু দ্বারা কুরবানী শুদ্ধ হবে না।

    (২) আয়িবে ইয়াসির অর্থাৎ সাধারণ দোষ বা ত্রুটি। যে দোষ-ত্রুটি থাকলে কুরবানী শুদ্ধ হবে। যেমন যে পশুর কোন এক অঙ্গের এক তৃতীয়াংশের কম নষ্ট হলে উক্ত পশু দ্বারা কুরবানী শুদ্ধ হবে। অথবা যে পশুর অর্ধের বেশী যদি দাঁত থাকে, উক্ত পশু দ্বারা কুরবানী জায়িয রয়েছে। অথবা যে পশুর শিং একেবারে উঠেনি, উক্ত পশু দ্বারা কুরবানী শুদ্ধ হবে।

    হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত-
    اَشَارَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِه وَيَدِيْ قَصْرٌ مِنْ يَدِه اَرْبَع لَايُضَحّىْ بِـهِنَّ اَلْعَوْرَاء اَلْبَيّنُ عَوْرُهَا وَالْـمَرِيْضَةُ اَلْبَيّنُ مَرْضُهَا وَالْعَرْجَاء اَلْبَيّنُ ظَلْعُهَا وَالْعَجْفَاءَ اَلَّتِيْ لَا تُنْقِي فَقَالُوْا لِلْبَرَاءِ فَاِنـَّمَا نَكَرَهُ النُّقْصَ فِي السّنّ وَالْاُذْنِ وَالذَّنْبِ قَالَ فَاكْرِهُوْا مَا شِئْتُمْ وَلَا تُـحَرّمُوْا عَلٰى النَّاسِ.
    অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত মুবারক দিয়ে ইশারা করেন, আমার হাত মুবারক তো উনার হাত মুবারক থেকে ছোট এবং বলেন, ‘চার ধরণের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায় না-
    ১) যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট,
    ২) যে পশু অতি রুগ্ন,
    ৩) যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং
    ৪) যে পশু এত জীর্র্ণ-শীর্র্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই।’
    হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বললেন, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী দ্বারাও কুরবানী করা অপছন্দ করি। তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারেন তবে তা অন্যের জন্য হারাম করবেন না।” (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

    হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত-
    اَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَّيْنَ وَالْاُذْنَ وَاَنْ لَّانُضَحِّي بِـمُقَابَلَةِ وَلَا مُدَابَرَةِ وَلَا شَرْقَاءِ وَلَا خَرْقَاءِ.
    অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের আদেশ মুবারক করেন, আমরা যেন কুরবানীর পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ্য করি এবং ওই পশু দ্বারা কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কর্তিত। তদ্রুপ যে পশুর কান লম্বার ফাঁড়া বা কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত।” (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

    হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম থেকে আরো বর্ণিত আছে-
    نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ نُضَحِّى بِاَعْضَبِ الْقَرْنِ وَالْاُذْنِ.
    অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিং ভাঙ্গা বা কান-কাটা পশু দ্বারা কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ)

    অন্যত্র বর্ণিত আছে-
    وَلَاتَذْبَـحُوْا عَجْفَاءَ وَلَا عَرْجَاءَ وَلَا عَوْرَاءَ وَلَامَقْطُوْعَةَ الْاُذْنِ وَلَوْ وَاحِدَةً
    অর্থ : “তোমরা ক্ষীণ-দুর্বল, পঙ্গু, চক্ষুহীণ ও কান কাটা পশু যদিও একটি কান হয়। এমন পশু কুরবানী করবে না।

    অর্থাৎ নিম্নোক্ত দোষ-ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না-
    ১. শিং ভাঙ্গা,
    ২. কান কর্তিত বা গোলাকার ছিদ্রযুক্ত,
    ৩. চক্ষুহীন বা দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট,
    ৪. নাক কাটা,
    ৫. ঠোঁট কাটা বা দাঁত ভাঙ্গা,
    ৬. পা খোড়া বা পঙ্গু,
    ৭. লেজ কর্তিত,
    ৮. খুজলী/পাচড়াযুক্ত
    ৯. অতি রুগ্ন বা এমন জীর্ণ শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই,
    ১০. ত্রুটিযুক্ত বাঁট,
    ১১. পিছন দিক ত্রুটিযুক্ত।

    খাসী, বলদ ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা দুরস্ত ও শরীয়তসম্মত তো অবশ্যই বরং খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত :
    পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ও ফিক্বাহর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন প্রাণীর কোন এক অঙ্গ যেমন- কান, লেজ ইত্যাদির এক তৃতীয়াংশের বেশী নষ্ট হয়ে গেলে তা দ্বারা কুরবানী করা জায়িয নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে যেমন দাঁত অর্ধেকের বেশী যদি থাকে, তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা দুরুস্ত রয়েছে।
    এ উছূলের উপর ক্বিয়াস করে কোন কোন আলিম নামধারী মূর্খ ও গুমরাহ লোকেরা বলে থাকে যে, খাসী ও বলদ ইত্যাদি প্রাণী দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী দুরুস্ত হবেনা। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ এ ধরণের ক্বিয়াস অশুদ্ধ, নাজায়িয এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর বিরোধী। কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক-উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে খাসী কুরবানী করেছেন। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে-
    عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ ذَبَحَ الِنَّبُّى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الذَّبْحِ كَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ اَمْلَحَيْنِ مَوْجَوْئَيْنِ.
    অর্থ : “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন।হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক কুরবানীর দিন সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের শিং বিশিষ্ট খাসীকৃত দু’টি তাজা দুম্বা কুরবানী করলেন।”
    কাজেই, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, খাসী এবং খাসীকৃত প্রাণী কুরবানী করা জায়িয তো বটেই বরং খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। খাসী করার কারণে প্রাণীর মধ্যে ছূরতান (প্রকাশ্য) যে ত্রুটি বা খুঁত হয়, সেটা শরয়ী ত্রুটি বা খুঁতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    More
  • 40. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব
     

    14079672_1291051337602206_4438926550136443672_n

    পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে-
    عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِي سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِي سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِي سَوَادٍ فَأُتِـيَ بِهِ لِيُضَحِّيَ بِهِ فَقَالَ لَـهَا‏ يَا عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ هَلُمِّي الْمُدْيَةَ‏‏.‏ ثُـمَّ قَالَ‏ اشْحَذِيهَا بِـحَجَرٍ‏.‏ فَفَعَلَتْ ثُـمَّ أَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ ثُـمَّ ذَبَـحَهُ ثُـمَّ قَالَ‏ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُـحَمَّدٍ وَاٰلِ مُـحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُـحَمَّدٍ‏.‏ ثُـمَّ ضَحَّى بِهِ.‏
    অর্থ : উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত রয়েছে, একবার হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, এমন একটি শিংওয়ালা দুম্বা আনতে যা কালোতে হাঁটে, কালোতে শোয় ও কালোতে দেখে অর্থাৎ যার পা, পেট ও চোখ সবই কালো। অতঃপর কুরবানী দেয়ার উদ্দেশ্যে উনার জন্য এরূপ একটি দুম্বা আনা হলো। তখন তিনি বললেন, হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ছুরিটি দিন! অতঃপর বললেন, পাথরে তা ধারালো করুন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম বললেন, আমি তা করলাম। অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং দুম্বাটিকে ধরলেন তারপর পার্শ্বদেশ করে শোয়ালেন এবং যবেহ করতে গিয়ে বিসমিল্লাহ বললেন আরো বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি এই কুরবানী কবুল করুন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার তরফ থেকে এবং উনার সম্মানিত পরিবারের তরফ থেকে এবং উনার উম্মতদের তরফ থেকে। অতঃপর উক্ত দুম্বাটি দ্বারা সকালের খাবার খাওয়ালেন।” (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ)
    অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
    عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الأَضْحَى بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ مِنْ مِنْبَرِهِ وَأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَـحَهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَقَالَ بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنّي وَعَمَّنْ لَـمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي‏.‏
    অর্থ : “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি কুরবানীর দিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হলাম। যখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নামাযের পর) খুতবা শেষ করলেন এবং মিম্বর শরীফ থেকে নেমে আসলেন এরপর উনার জন্য একটি দুম্বা আনা হলো। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত মুবারকে সেটা যবেহ করলেন এবং বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বললেন অর্থাৎ বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করলেন। আরো বললেন, এই কুরবানী আমার তরফ থেকে এবং আমার ঐ সকল উম্মতের তরফ থেকে যারা কুরবানী দেননি অর্থাৎ যাদের কুরবানী করার সামর্থ নেই।” (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
    অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
    عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْتُ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحّىْ بِكَبْشَيْنِ فَـقُلْتُ لَه مَا هٰذَا فَقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِـىْ اَنْ اُضَحّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحّىْ عَنْهُ.
    অর্থ : “তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালামকে দু’টি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম ইহা কি? অর্থাৎ দু’টি কেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ওছীয়ত মুবারক করেছেন, আমি যেনো উনার পক্ষ হতে কুরবানী করি। সুতরাং আমি উনার পক্ষ হতে অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করছি। (আর অপরটি আমার পক্ষ থেকে)।” (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
    উপরোক্ত হাদীছ শরীফ হতে বুঝা যাচ্ছে-
    ১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামর্থ্যবান ও সামর্থ্যহীন সকল উম্মতের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন।
    ২. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামর্থ্যহীন উম্মতের পক্ষ হতেও আলাদাভাবে কুরবানী করেছেন।
    ৩. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে কুরবানী করার জন্য ওসীয়ত মুবারক করেছেন।
    হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী কেন করেছেন? উম্মত যাতে ফযীলত লাভ করতে পারে। ঠিক একইভাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার তরফ থেকে কুরবানী করার ওসীয়ত মুবারক করেছেন যাতে উম্মত বিশেষ ফযীলত লাভ করতে পারে।
    তাই প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে কুরবানী করা। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
    عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتَّى اَكُونَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْـمَعِينَ‏‏.‏
    অর্থ : “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা থেকে, পুত্র থেকে এবং সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হই।” (বুখারী শরীফ, কিতাবুল ঈমান, হাদীছ শরীফ : ১৫; মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ঈমান, হাদীছ শরীফ : ১৭৭

    More
  • 41. কুরবানী করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যারা সামর্থ না থাকায় কুরবানী করতে পারেন না তাদের কুরবানী করার উপায়!
     

    14184553_1291506754223331_1658698767964705823_n

    কুরবানী করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যারা সামর্থ না থাকায় কুরবানী করতে পারেন না তাদের কুরবানী করার উপায়!

    যে সকল লোক এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় অথচ তারা কিছু লোক মিলে পশু কিনে যবেহ করে গোশত বণ্টন করে অথবা হাটবাজার থেকে গোশত কিনে খেয়ে থাকে। এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে। এ সকল ব্যক্তিদের করণীয় হচ্ছে-
    তারা হাটবাজার থেকে গোশত না কিনে বরং কিছু লোক মিলে কুরবানীর পশু কিনে এক বা একাধিক নামে কুরবানী করতে পারে।
    যেহেতু কুরবানীর পশু উট, গরু ও মহিষে ৭ নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসীতে ১ নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।
    তাই যদি ৪০ জন ব্যক্তি মিলে ১টি উট, গরু বা মহিষ কিনে ৭ নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে।
    তদ্রুপ ১টি খাসী তিনজনে মিলে খরীদ করে, যদি ১ নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানীও শুদ্ধ হবে।
    তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরণের কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে কুরবানী দিয়ে কুরবানীর ফযীলত হাছিল করতে। আর উট, গরু ও মহিষে সাত নামের বেশি এবং দুম্বা, ছাগল ও ভেড়াতে এক নামের বেশি দেয়া যায় না। কার নাম দিবে বা কার নাম বাদ দিবে, এ নিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হবে।
    এছাড়াও যদি কারো পক্ষ থেকে দেয়া হয়, অন্য কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি না করলেও অন্তরে সম্মতি না থাকে তাহলে কুরবানী শুদ্ধ হবেনা। কারণ একজনের টাকা দিয়ে অন্যজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবেনা টাকাওয়ালার সম্মতি ব্যতিত।
    সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে উত্তম তরীক্বা ও আদব হচ্ছে, যদি কুরবানীর পশু এক নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, নাযাত সর্বপোরি মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের খাছ সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার উসীলাও হবে।
    যে সকল প্রাণীতে সাত নামে কুরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে প্রথমতঃ এক নাম মহান আল্লাহ পাক-উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে এবং বাকী ছয় নাম পর্যায়ক্রমে
    - হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালামদের পক্ষ থেকে,
    - হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামদের পক্ষ থেকে,
    - হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামদের পক্ষ থেকে।
    এছাড়াও
    - হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম,
    - হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম,
    - হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম,
    - হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম,
    - হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও
    - হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
    উনাদের পক্ষ থেকে ইচ্ছে মুতাবিক কুরবানী দিতে পারে।
    তাহলে এতে কোন ফিৎনা পয়দা হবেনা, সাথে সাথে কুরবানীর দিন মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে- কুরবানী করা, তাও আদায় হলো। আর কুরবানীর বরকতময় গোশতও লাভ হলো। সাথে সাথে গুণাহর কাজ থেকেও বেঁচে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
    একইভাবে যে সকল প্রাণীতে ১ জনের নাম দেয়া যায়, সেক্ষেত্রেও উপরোক্ত নিয়মে উনাদের যে কোনজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করে শরীকদাতারা সমভাবে গোশত বন্টন করে দিতে পারেন।

    মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে কুরবানীর দিন উনার প্রিয় আমল কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

    More
  • 42. কুরবানীর ফযীলত
     

    14141671_1289775947729745_2271445856798205671_n

    কুরবানীর ফযীলত

    কুরবানীর ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন
    (ক) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
    عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَ ضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ قَالُوْا فَمَا لَنَـا فِيْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوْا فَالصُّوْفُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِّنَ الصُّوْفِ حَسَنَةٌ.
    অর্থ : “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে বললেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নত। উনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে? তিনি বললেন, কুরবানীর পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
    (খ) বর্ণিত রয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালামকে বলেন, হে হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম! আপনি কুরবানী করুন। হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি শুধু আমার জন্যই? মহান আল্লাহ পাক বলেন, না- এটা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম-উনার থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত জারী থাকবে। হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম বলেন, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উম্মতের জন্য কুরবানীর মধ্যে কী ফযীলত রয়েছে? মহান আল্লাহ পাক বলেন, দুনিয়াবী হায়াতে প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে ১০টি নেকী দেয়া হবে, ১০টি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। আর পরকালে কুরবানীর পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একজন করে হুর দেয়া হবে। শরীরের প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে বালাখানা দেয়া হবে। প্রতিটি গোশতের টুকরার বিনিময়ে একটি করে পাখি দেয়া হবে আর প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে একটি করে বোরাক (বাহন) দেয়া হবে। যাদ্বারা সে বিদ্যুত গতিতে পুলছিরাত পার হয়ে যাবে।
    এ প্রসঙ্গে অন্য হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
    سَـمّنُوْا ضُحَايَاكُمْ فَاِنَّـهَا عَلَى الصّرَاطِ مَطَايَاكُمْ
    অর্থ : “তোমরা মোটা-তাজা, হৃষ্টপুষ্ট পছন্দনীয় পশু কুরবানী করো, কেননা কুরবানীর পশুগুলো তোমাদের জন্য পুলছিরাত পার হওয়ার বাহন স্বরূপ হবে।”
    পুলছিরাত হচ্ছে হাশর ময়দান থেকে জান্নাতে যাওয়ার পথে জাহান্নামের উপর একখানি পুল। বর্ণিত রয়েছে, এই পুল চুল অপেক্ষা চিকন এবং তলোয়ার বা ক্ষুর অপেক্ষা ধারালো। এই পুলছিরাত ৩০ হাজার বছরের রাস্তা। প্রত্যেককেই এই পুল ছিরাত পার হতে হবে। পুলছিরাত পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণভাবে এই পুলছিরাত পার হওয়া অত্যন্ত কঠিন। পুলছিরাত পার হওয়ার পথে যাদের বাহন থাকবে তাদের জন্য পুলছিরাত পার হওয়া সহজ হবে। আর পুলছিরাত পার হওয়ার সেই বাহন হচ্ছে কুরবানীর পশু। সুবহানাল্লাহ!
    (গ) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عَنْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصِدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَا عَمِلَ اِبْنُ اٰدَم مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ مِنْ اِهْرَاقِ الدَّمِ وَاِنَّهُ لَيَأْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُوْنِـهَا وَاَشْعَارِهَا وَاَظْلَافِهَا وَاِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِـمَكَانِ قَبْلَ اَنْ يَّقَعَ بِالْاَرْضِ فَطِيْبُوْا بِـهَا نَفْسًا.
    অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম-উনার থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক-উনার হাবীব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত কুরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট পৌঁছে যায়। কাজেই আপনারা আনন্দচিত্তে কুরবানী করুন।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)
    (ঙ) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে-
    عَنْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصِدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ يَا فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ قُوْمِىْ اِلٰى اُضْحِيَّتِكِ فَاشْهَدِيْهَا فَاِنَّـهَا لَكِ بِكُلّ قَطْرَةٍ تَقْطُرُمِنْ دَمِهَا اَنْ يَّـغْفِرَ لَكِ مَاسَلَكَكِ مِنْ ذُنُوْبِكِ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلَنَا خَاصَّةً وَاَهْلَ الْبَيْتِ اَوْلَنَا وَلِلْمُسْلِمِيْىنَ قَالَ بَلٰى لَنَا وَلْلِمُسٍلِمِيْىنَ.
    অর্থ : “হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনি আপনার কুরবানীর পশুর কাছে চলুন এবং যেখানে (কুরবানীর সময়) উপস্থিত থাকুন। নিশ্চয়ই পশুর প্রত্যেক ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে আপনার বিগত জীবনের গুণাহ খতা ক্ষমা করা হবে। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানীর ফযীলত কি শুধু আমাদের এবং হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালামদের জন্য? নাকি আমাদের জন্য এবং সমস্ত মু’মিন মুসলমানদের জন্য। জাওয়াবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, হ্যাঁ, আমাদের জন্য এবং সমস্ত মু’মিন মুসলমানদেরও জন্য।”

    More
  • 1. যিলহজ্জ্ব শরীফ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযিলত
     
  • 2. ছবি তুলে হজ্জ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কি হুকুম?
     

    সুওয়াল: আমরা জানি, ছবি তোলা হারাম এবং বেপর্দা হওয়াও হারাম। কিন্তু বর্তমানে পুরুষ ও মহিলাকে হজ্জ করতে হলে বিশেষ করে এ দুটি হারাম কাজের শিকার হতে হয়। এমতাবস্থায় হজ্জ করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কি হুকুম? জানতে ইচ্ছুক।

    জাওয়াব: স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনার কালাম পাক-এ এবং স্বয়ং আল্লাহ পাক-উনার হাবীব রহমাতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হাদীছ পাকে হজ্জের বিধি-বিধান সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। সেই সমষ্টিগত বর্ণনা থেকে আখিরী উম্মতগণের প্রতি জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয সাব্যস্ত হয়েছে। এবং এ ক্ষেত্রে শর্ত করা হয়েছে পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তার।

    পথের সামর্থ্য বলতে “সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল ও পাথেয় থাকা এবং যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা।”

    আর পথের নিরাপত্তা বলতে সুস্থ থাকা এবং জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা থাকা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

    ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا.

    অর্থ: “আল্লাহ পাক-উনার জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরয যার পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তা রয়েছে।” (সূরা আলে ইমরান-৯৭)

    আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন-

    فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال فى الحج.

    অর্থঃ “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ পালন করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।” (সূরা বাক্বারা-১৯৭)

    উক্ত আয়াত শরীফ-এ স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে যে, হজ্জ করতে গিয়ে যদি ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকে তথা হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে হারাম ও কুফরী কাজ করতে হয় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরয হবে না। যেমন ছবি তোলা, পর্দা লঙ্ঘন করা উভয়টি শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ এবং চরম ফাসিকী ও নাফরমানীমূলক কাজ। সুতরাং হজ্জের অজুহাতে এই হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ করা কখনই শরীয়তসিদ্ধ নয়। বরং সর্বক্ষেত্রে এ হারাম কাজে বাধা প্রদান করা প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

    এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখে সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তা হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে সে যেন যবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি যবানের দ্বারাও বাধা দিতে না পারে তাহলে যেন অন্তরে তা ঘৃণা করে দূরে সরে থাকে। আর এটাই সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়। এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণও অবশিষ্ট নেই।” (মুসলিম শরীফ)

    অর্থাৎ ক্ষমতা থাকলে প্রথমত: শক্তি বা বল প্রয়োগ করে ছবি ও বেপর্দা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত: সেই ক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে যবানে বা মুখে বলতে হবে বা জানিয়ে দিতে হবে যে, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া হারাম। হজ্জসহ সর্বক্ষেত্রে ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ। জায়িয মনে করা কুফরী। কাজেই মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ এবং হজ্জের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্থান থেকে সিসিটিভি ও ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হোক।

    তৃতীয়ত: যদি যবানে বলার ক্ষমতাও না থাকে তাহলে ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়াকে অন্তর থেকে হারাম ও গুনাহর কাজ স্বীকার করে তা থেকে দূরে সরে থাকতে হবে। আর এটা হচ্ছে একেবারে দুর্বল ঈমানদারের পরিচয়। এরপরে ঈমানের আর কোন স্তর নেই। অর্থাৎ যারা হাতেও বাধা দিবে না, যবানেও প্রতিবাদ করবে না এবং সেই হারাম কাজকে অন্তরে খারাপ জেনে বিরত বা দূরেও সরে থাকবে না বরং সেটাকে সমর্থন করবে এবং তাতে জড়িত হবে হাদীছ শরীফ মোতাবেক তাদের ঈমান নেই। তাহলে ছবি তুলে ও বেপর্দা হয়ে হজ্জ করা কি করে জায়িয হতে পারে?

    অতএব, কেউ যদি সত্যিই শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী হজ্জ কতে চায় তাহলে তাকে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ঘোষণাকৃত ছবি তোলা ও বেপর্দাসহ সর্বপ্রকার হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি হজ্জ করতে গিয়ে ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া অথবা অন্য কোন হারাম কাজে জড়িত হতে হয় তাহলে হজ্জ ফরয হবে না। যেমন কোন মহিলা যদি সারা পৃথিবীর মালিকও হয়, আর তার যদি কোন মাহরাম পুরুষ না থাকে তাহলে তার উপর হজ্জ ফরয হবে না। কারণ মাহরাম পুরুষ ব্যতীত হজ্জে গেলে তার দ্বারা হারাম কাজ হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান।

    কেউ কেউ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, “জরুরত বা মা’জুরতার কারণে হারামটা মুবাহ হয়ে যায়। তাই হজ্জের জন্য ছবি তুললে কোন গুনাহ হবে না। কারণ তা জরুরতবশত: তোলা হয়। এর জবাবে বলতে হয় যে, হজ্জের ক্ষেত্রে তাদের উক্ত বক্তব্য আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হজ্জের জন্য ছবি তোলাটা কখনই মা’জুরের পর্যায়ে পড়ে না। কেননা হজ্জ করার জন্য সরকার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে বাধ্য করা হয়নি এবং ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকায় যেখানে হজ্জই ফরয নয় সেখানে কি করে সে মা’জুর হলো? এখন কোন মহিলা যদি বলে, আমার সম্পদ রয়েছে কিন্তু মাহরাম নেই এক্ষেত্রে আমি মা’জুর, সুতরাং মাহরাম ছাড়াই হজ্জ করবো। তার এ কথা কি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে? কস্মিনকালেও নয়। কারণ মাহরাম ছাড়া তার উপর হজ্জ ফরয নয়। আর যদি হজ্জ ফরয না হয় তাহলে সে মা’জুর হলো কি করে? বরং কোন সরকারের পক্ষ থেকে হজ্জের ক্ষেত্রে ছবি তোলাকে আবশ্যক করাটা হজ্জের ফরয সাকিত বা রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ বা বাধা। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

    عن ابى امامة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يمنعه من الحج حاجة ظاهرة او سلطان جائر او مرض حابس.

    অর্থ: “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন ব্যক্তির হজ্জ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধকারী বিষয় হচ্ছে- প্রকাশ্য বাধা অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর অসুখ।” (মাছাবীহুস সুন্নাহ, দারিমী, মিশকাত, মিরকাত)

    অর্থাৎ, কোন ব্যক্তির হজ্জ করার সামর্থ্য না থাকলে অথবা অত্যাচারী শাসকের কারণে জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকলে অথবা কঠিন অসুস্থতা থাকলে তার উপর হজ্জ ফরয হবে না। অর্থাৎ হজ্জের ফরয সাকিত হয়ে যাবে। (দলীলসমূহ: সমূহ হাদীছ শরীফ, তাফসীর শরীফ ও ফিক্বাহর কিতাব দ্রষ্টব্য)

    More
  • 3. ছবি তুলে হজ্জ করা জায়িয নেই ছবি তুলে হজ্জ করলে ছওয়াবের চেয়ে গুনাহই বেশি হবে
     

    মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, আমি মানুষ ও জিন জাতিকে আমার ইবাদত বন্দেগী করার জন্য সৃষ্টি করেছি। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে বান্দার উপর অবশ্য করণীয় বিষয়ের মধ্যে হজ্জ করা অন্যতম। হজ্জ করার পূর্বে সকলের জন্য ফরয হচ্ছে হজ্জের সমস্ত আহকাম, মাসয়ালা-মাসায়িল সম্পর্কে ইলম অর্জন করা।

    কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইলমের ব্যাপারে স্বয়ং নিজেই ‘সূরা ত্ব হা-এর ১১৪ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “তোমরা দোয়া করো, আয় আল্লাহ পাক! আপনি আমাদের ইলমকে বৃদ্ধি করে দিন।”

    আর ‘মিশকাত শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণনা করা হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক নর-নারী তথা পুরুষ মহিলার জন্য ইলম অর্জন করা ফরয।”
    ‘বুখারী শরীফ-এ এসেছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “সমস্ত আমলের ইমাম হচ্ছে ইলম বা জ্ঞান।”

    কেননা কোনো কাজ করার পূর্বে সে বিষয়ের ইলম না থাকলে সে কাজটি যেমনি ভুল হবে তেমনি অসম্পূর্ণও থেকে যাবে। তাই কোনো ইবাদত করার পূর্বে ঐ ইবাদতের হুকুম-আহকাম মাসয়ালা-মাসায়িল সম্পর্কে ইলম অর্জন করা অতীব জরুরী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর ইবাদত বা আমল ইত্যাদি বিষয়গুলো করার একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকতে হবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি অর্জন করার।

    কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআনুল কারীম-এর ‘সূরা তওবা-এর ৭২ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়।” সুবহানাল্লাহ!

    ‘সূরা তওবা-এর ৬২ নম্বর আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “তোমরা যদি নিজেদেরকে মুমিন বলে দাবি করে থাক, তাহলে তোমাদের উচিত হবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করা। আর উনারাই হচ্ছেন সন্তুষ্টি পাওয়ার সমধিক উপযুক্ত।” সুবহানাল্লাহ!

    তাই মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি পাওয়ার অভিপ্রায় প্রত্যেক বান্দার থাকা অত্যাবশ্যকীয়। আর উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি পেতে হলে অবশ্যই বান্দাকে উনাদের নির্দেশিত মতে মত ও পথে পথ হতে হবে। তাহলেই বান্দার হায়াতে জিন্দেগী স্বার্থক হবে। পরকালে নাজাত লাভের পন্থা তৈরি হবে।

    প্রত্যেক সামর্থ্যবান (শরীয়ত অনুযায়ী) বালিগ, আক্বিল ব্যক্তির উপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয। আর এই হজ্জ অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সুন্নত মুতাবিক হতে হবে। তা নাহলে হজ্জ কবুল হবে না, এর কবুলিয়াতের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে? তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত হবে হজ্জ করার পূর্বে হজ্জ সম্পর্কিত ইলম অর্জন করা।

    ‘বুখারী শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “অচিরেই আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। একটি দল ব্যতীত তাদের প্রত্যেকেই হবে জাহান্নামী। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা বললেন- ইয়া হাবীবুল্লাহ, নূরে মুাজস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সে দলটি কারা যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন? তখন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, যারা আমার এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মতে মত, পথে পথ হবেন তারাই হচ্ছেন নাজিহ বা জান্নাতী দল। সুবহানাল্লাহ! আর এই নাজিহ বা জান্নাতী দলটির নাম হচ্ছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ।
    উল্লেখ্য যে, এই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ-এর সকল ইমাম, মুজতাহিদ উনাদের মতে, প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। যারা প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখাকে জায়িয মনে করবে, তারা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে মুরতাদ হিসেবে পরিগণিত হবে। তাদের স্ত্রী থাকলে তালাক হয়ে যাবে, সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে, হজ্জ করলে তা বাতিল হয়ে যাবে, ওয়ারিস্বত্ব বাতিল হবে। ইসলামী খিলাফত থাকলে তাদের তওবা করার সুযোগ থাকবে মাত্র ৩ দিন। ৩ দিনের মধ্যে তওবা না করলে তাদের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড।
    ‘বুখারী শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হালাল সুস্পষ্ট হারামও সুস্পষ্ট।” শরীয়তে যা হালাল করা হয়েছে তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম হবে না। আর যা হারাম করা হয়েছে তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল করা হবে না।
    সুতরাং যারা এর বিপরীত মত পোষণ করবে তারাই মুরতাদ হিসেবে পরিগণিত হবে।

    More
  • 1. চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা
     

    বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলীক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
    Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে (অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে) তারা ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে।

    এ সংখ্যায় আমরা আলোচনা করবো পবিত্র যিলহজ্জ মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী সরকারের কারচুপি প্রসঙ্গে।

    প্রথমেই আসা যাক এ বছর অর্থাৎ ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র যিলহজ্জ মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী আরব কি পদক্ষেপ নিতে পারে সে প্রসঙ্গে। ৬ নভেম্বর শনিবার অমাবস্যার দিন। সেদিন কোনভাবেই সউদী আরবে চাঁদ দেখা যাবে না। কিন্তু সউদী আরবে যিলক্বদ মাস চাঁদ না দেখে একদিন আগে শুরু হওয়াতে ৬ নভেম্বর, শনিবার দিনটি হবে সউদী আরবে ২৯শে যিলক্বদ। সুতরাং সউদী আরব চাঁদ না দেখেই যদি ৭ নভেম্বর, শনিবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ মাস শুরু করে তবে এ বছরও পবিত্র হজ্জ বাতিল হবে এবং পাশাপাশি হজ্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল আমল গুলো বাতিল হবে। যেমন:- ৯ই যিলহজ্জ শরীফ-এ আরাফার ময়দানে থাকা ফরয অর্থাৎ হাজী সাহেবগণ অবস্থান করবেন ৮ই যিলহজ্জ শরীফে। অনুরূপভাবে মুজদালিফায় উপস্থিত থাকার ওয়াজিব, চুল কাটার ওয়াজিব এবং ১০ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত ও ইহরাম খোলার ফরয ইত্যাদি সঠিক তারিখে না হলে আমল বাতিল হবে।
    ৬ নভেম্বর, শনিবার চাঁদের বয়স থাকবে মাত্র ১০ ঘণ্টা, দিগন্তরেখার মাত্র অর্ধ ডিগ্রি উপরে থাকবে চাঁদের অবস্থান এবং সূর্য অস্ত যাবার মাত্র ৫ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে। সুতরাং সেদিন কোনভাবেই চাঁদ দৃশ্যমান হবে না এটা প্রমাণিত। তারপরেও যদি সউদী আরব ৭ নভেম্বর, রবিবার  থেকে তাদের ক্যালকুলেশন অনুযায়ী পবিত্র যিলহজ্জ মাস শুরু করে সেটা হবে বিশ্বের সকল মুসলমানের সঙ্গে চাঁদের তারিখ নিয়ে প্রতারণা।
    আর যদি সউদী সরকার ৭ নভেম্বর, রবিবার পহেলা যিলহজ্জ মাস ঘোষণা দেবার জন্য মিথ্যা সাক্ষী যোগাড় করে (যা ইতিপূর্বেও করা হয়েছে) সেটা হবে আরও বেদনার। পদ্ধতি ভুল এক বিষয় কিন্তু মিথ্যা সাক্ষী যোগার করে প্রতারণার বিষয়টি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক কষ্টের। কেননা সউদী আরবে যেহেতু পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদিনা শরীফ রয়েছে ফলে বিশ্বের সকল মুসলমানের অনেক প্রত্যাশা যে, তারা মুসলামানদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। অত্যন্ত হজ্জের ক্ষেত্রে তারা সকল আয়োজন সঠিকভাবে করবে। ঘটনাক্রমে যদি সউদী সরকার যিলক্বদ মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করে এবং সেদিন আকাশ পরিষ্কার থাকে তবে চাঁদ দেখা যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে পবিত্র যিলহজ্জ মাস সঠিক তারিখে শুরু হবার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করবো সউদী সরকার এ বছর পবিত্র যিলহজ্জ মাস চাঁদ দেখে শুরু করে মানুষের হজ্জ পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
    প্রসঙ্গত একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। মসজিদুল হারামাইনসহ যে সকল পবিত্র স্থানসমূহে হাজীদের যেতে হয় সেখানে সিসিটিভি স্থাপন করে মুসলমানদের কবীরা গুনা হয়। গুনাহগার বানানোর কোন অধিকার সউদী সরকারের নেই। সউদী সরকারের উচিত তাদের মনগড়া নিয়ম বাদ দিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করা।

    More